Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘মুখ্যমন্ত্রীর ঋণ শোধ করতে পারব না’, বলছেন ট্রাইবুনালে আবেদনকারী কয়েক লক্ষ ভোটার

কোচবিহারের শীতলকুচি বিধানসভার পশ্চিম শীতলকুচি গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা বিবি, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার শাহেদা খাতুন, ফললুল হক। এঁরা সকলেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাইবুনালে আবেদন করে আশায় বুক বেঁধেছেন।

‘মুখ্যমন্ত্রীর ঋণ শোধ করতে পারব না’, বলছেন ট্রাইবুনালে আবেদনকারী কয়েক লক্ষ ভোটার
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহারের শীতলকুচি বিধানসভার পশ্চিম শীতলকুচি গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা বিবি, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার শাহেদা খাতুন, ফললুল হক। এঁরা সকলেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাইবুনালে আবেদন করে আশায় বুক বেঁধেছেন। কবে আসবে ২১ এপ্রিল! সেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে তো? বলছেন, তাঁদের জন্য লড়াই করেছেন একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঋণ তাঁরা কোনো দিন শোধ করতে পারবেন না। তাঁর জন্যেই ট্রাইবুনালের কাছে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতো গরিব মানুষদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতেই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। 

Advertisement

এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। যত প্রত্যন্ত গ্রামেই থাকুন না কেন, সব খবরই পৌঁছে যায়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে কী হবে? মাঝেমধ্যে এসব দুঃস্বপ্ন হয়ে আসে মোফিজুল মিয়াঁর চোখে। মাত্র ২৫ বছর বয়স। এর আগে লোকসভায় ভোট দিয়েছেন। তারপর এবার নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। তিনিও মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখছেন। ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয় তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। অথচ কী অপরাধ, বুঝে উঠতে পারছেন না। 
কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার অধীনে কোচবিহার পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহেদা খাতুন, লায়েলা খাতুন। তাঁরা বলেন, ভোট দিচ্ছি বহু বছর ধরে। অথচ ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি দিয়েছি। তারপরেও নাম ওঠেনি। এরপর ট্রাইবুনালে আবেদন করেছি। কী কারণে নাম কাটল, তার কোনো যুক্তি, উত্তর কিছুই দিতে পারছে না। এখন তো মুখ্যমন্ত্রীই আমাদের জন্য লড়াই করছেন। দিদির উপরেই ভরসা রাখছি। 
শীতলকুচির পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আনোয়ারা বিবি বললেন, আমার পরিবারের ছ’জনের নাম বাদ গিয়েছে। ট্রাইবুনালে আবেদন করেছি।  আমাদের জন্য একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করেছেন। তাঁকে কোনো দিনই ভুলতে পারব না। হয়তো তাঁর জন্যেই আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না। 
রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলা কোচবিহার। এসআইআর আবহে আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন কয়েকজন। তার মধ্যে রয়েছেন খোদ বিএলও। ভূমিপুত্র রাজবংশী মানুষ থেকে শুরু করে নস্যশেখ সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে লাইন দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। বাকিটা সময়ের গর্ভে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ