


সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দিতে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ চুপচাপ। বহিরাগত প্রার্থীকে মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। কেউ অসুস্থতার কথা বলে প্রচারে যাননি। আবার কেউ প্রার্থী ডাকেননি বলে অভিমান প্রকাশ করেছেন। এমনকি, প্রার্থী পছন্দ না হওয়ার কথা জানিয়ে অনেকে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন। এই কোন্দল নিয়ে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। যদিও বিষয়টিকে আমল দিতে নারাজ কান্দির বিজেপি প্রার্থী গার্গী দাস ঘোষ। তাঁর দাবি, মনোনয়ন জমা হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
গার্গীদেবী লালবাগ শহরের বাসিন্দা। প্রার্থী ঘোষণার দিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি কান্দিতে এসে পৌঁছান। কিন্তু ওইদিন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। পরদিন প্রার্থী কান্দির দোহালিয়া কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচারে বের হন। সেখানেও স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের অনুপস্থিতি ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কেন্দ্রে বাইরে থেকে প্রার্থী করার বিষয়টি স্থানীয় নেতৃত্ব মেনে নিতে পারছে না। তার ফলেই বিজেপির কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসছে।
বিজেপির কান্দি শহরের নেত্রী বিনীতা রায় বলেন, আমি অসুস্থ। এখনও গায়ে জ্বর রয়েছে। তাই প্রার্থীর সঙ্গে দেখা বা প্রচার কিছুই করা যায়নি। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য ধনঞ্জয় ঘোষ বলেন, বাইরে থেকে প্রার্থী করাটা এখানে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। আর প্রার্থী একবারের জন্যও আমাকে ডাকেননি। তাই ভোট করাতে তাঁর যে আমাদের দরকার আছে, সেটাই বা কীভাবে বুঝব? একটা কথা মনে রাখা উচিত, এই বিধানসভায় স্থানীয় নেতৃত্ব ছাড়া দলের ভোট হবে না।
পদ্মের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সদস্য গৌরাঙ্গগোপাল সাহা বলেন, কর্মীরা স্থানীয় কাউকে প্রার্থী হিসাবে চেয়েছিলেন। কিন্তু যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁর এলাকায় কোনো পরিচিতি নেই। উনি বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বাইরের মানুষ। এনিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাব দিতে হিমশিম যাচ্ছি। তাই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
স্থানীয় বিজেপি নেতা ব্রতীনকান্তি সিংহ অবশ্য বলেন, প্রার্থী পছন্দ না হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁর সঙ্গে প্রচারেও বেরিয়েছি। তবে এলাকার নেতা-কর্মীদের অনেকের মত আলাদা হতে পারে।
বিজেপি সূত্রে খবর, নাম ঘোষণার পরই স্থানীয় বেশ কিছু নেতা বহিরাগত প্রার্থীকে মেনে নিতে না পেরে দলের রাজ্য কমিটির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতে কান্দিতে বিজেপির বিভিন্ন পদে থাকা ১৫জন নেতা স্বাক্ষর করেছেন।
গার্গীদেবী অবশ্য বলেন, শুরু থেকেই প্রচারে রয়েছি। স্থানীয় নেতৃত্বের অনেকেই প্রচারে সঙ্গে আছেন। বাকিরাও চলে আসবেন। শুরুর দিকে এরকম হয়ে থাকে। তবে নমিনেশন হলেই আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে নির্বাচন লড়ব।