


উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি: ভোট ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু মাঠে দেখা মিলছে না সেই চেনা কর্মী-সমর্থকদের। ধূপগুড়িতে নির্বাচনী আবহ যেন আটকে পড়েছে আলুর খেতে। আলুর পচন আর বাজারে দাম না থাকায় জমে উঠছে না নির্বাচনী প্রচার— এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, আলু তোলা শেষ না হলে প্রচারে ঝড় উঠবে না। কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় অংশই এখন মাঠমুখী। ফলে দলীয় কার্যালয়গুলিতে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে ভাটা পড়েছে।
গত মঙ্গলবার ধূপগুড়ি বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বর্তমান বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়ের নাম। ঘোষণার পর থেকেই তিনি প্রচারে নেমে পড়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি বৃহস্পতিবার নরেশ চন্দ্র রায়কে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু দুই প্রধান দলের পার্টি অফিসেই কার্যত কর্মী-সমর্থকদের সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে— ভোটের মরশুমে পার্টি অফিসগুলি এমন নিরুত্তাপ কেন?
দুই দলের নেতারাই এজন্য আলুকেই ‘ভিলেন’ মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, ধূপগুড়ির অর্থনীতি মূলত আলুকে ঘিরেই আবর্তিত। এলাকার প্রায় প্রতিটি পরিবার কোনো না কোনো ভাবে আলু চাষ বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অথচ এবছর আলুর দাম তলানিতে। তার উপর সাম্প্রতিক ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে বহু জমিতে এক হাঁটু জল জমে রয়েছে। সেই জলের উপর দাঁড়িয়েই আলু তুলতে হচ্ছে কৃষকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমিতে থাকা ৭০ শতাংশ আলু ইতিমধ্যেই পচে গিয়েছে। শ্রমিকের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দ্রুত বাকি আলু তোলা না গেলে নিচু জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাচনী প্রচারের চেয়ে এখন কৃষকদের কাছে বড় লড়াই ফসল বাঁচানো।
তৃণমূল প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায় অবশ্য আশাবাদী। তাঁর কথায়, আর ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জমি থেকে আলু তোলা শেষ হয়ে যাবে। তারপর প্রচার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে। তৃণমূলের ধূপগুড়ি গ্রামীণ ব্লক সভাপতি মলয় রায় বলেন, মানুষ সত্যিই এখন আলু নিয়েই ব্যস্ত। জমিতে জল থাকায় তাড়াহুড়ো করে আলু তুলতে হচ্ছে। পাশাপাশি ভোটের কাজও সামলাতে হচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা কমলেশ সিংহ রায় বলেন, ধূপগুড়ির অর্থনীতি আলুর উপর নির্ভরশীল। সেখানে আলুর দাম না থাকলে সাধারণ কৃষকের মধ্যে নির্বাচনী উৎসাহ তৈরি হওয়া কঠিন।
তবে রাজনৈতিক মহলের আশা, আলু তোলার কাজ শেষ হলেই ফের চেনা ছন্দে ফিরবে ধূপগুড়ির ভোটের ময়দান। আপাতত নির্বাচনের উত্তাপকে ছাপিয়ে গিয়েছে কৃষকের দুশ্চিন্তা— মাঠে বাঁচবে কি ফসল, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। • নিজস্ব চিত্র।