


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: চলতি বছরের গোড়াতেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে জোড়াফুল ও পদ্ম শিবির। এতদিন পড়ায় পাড়ায় জনসংযোগ, পদযাত্রা, পথসভা, দেওয়াল দখল, দেওয়াল লিখন করা হয়। রবিবার ভোট ঘোষণার পর উত্তরবঙ্গের ২৭টি কেন্দ্রে তেড়েফুঁড়ে প্রচারে নামছে জোড়াফুল শিবির। একই ধরনের পরিকল্পনা বামফ্রন্ট ও হাত শিবিরের। তবে পদ্ম শিবির এখন সভা না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডের ভাষণের ভিডিও রেকডিং নিয়ে বাড়ি বাড়ি থেকে চায়ের দোকান, গ্রামের মাচা থেকে আড্ডার ঠেকে জনসংযোগের ছক কষেছে। সবমিলিয়ে উত্তরবঙ্গে ভোটের ময়দানে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।
এসআইআরের সূচনা লগ্নে শিলিগুড়িতে ময়দানে নামে তৃণমূল। তারা ভোটারদের সহযোগিতায় বুথে বুথে সহায়তা কেন্দ্র চালু করে। যা এখনও চলছে। ইতিমধ্যে উন্নয়নের পাঁচালি পাঠ, উন্নয়নের সংলাপ, বিশিষ্ট নাগরিকদের সংবর্ধনা প্রদান প্রভৃতি কর্মসূচি রূপায়িত করেছে।
এদিন ভোট ঘোষণা হতেই পদযাত্রা, সাইকেল মিছিল করে। সেইসঙ্গে চিকিৎসক, শিক্ষক, সরকারি কর্মী, ব্যবসায়ী, ক্রীড়াবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, নাট্যব্যক্তিত্ব, সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট রাইটারদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করছে। তৃণমূলের শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর কুন্তল রায় বলেন, ভোট ঘোষণা হতেই জনসংযোগের গতি আরও বেড়েছে।
একইভাবে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জেলার বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল। দল সূত্রে খবর, রাজবংশী ও আদিবাসী সংলাপ থেকে সংখ্যালঘুদের ইফতার পার্টি, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, নির্বাচনি কার্যালয় চালু করা, দেওয়াল লিখন, দলীয় ঝান্ডা দিয়ে সাজানো, ছোট সভা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলের রাজ্য কমিটির মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেন, এখন উত্তরবঙ্গে ভোটের ময়দানে ঝড় উঠবে। পাড়া ও খুলি বৈঠকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসও প্রচারে জোর দিয়েছে। তারা এখন দলীয় ঝান্ডা লাগানো, দেওয়াল লিখন, ছোট সভায় করছে। সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, ইতিমধ্যে অবস্থান বিক্ষোভ, ধরনা, জনসভা করেছি। দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সুবীন ভৌমিক বলেন, প্রচারে জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড শেষ করে জেলায় ফিরছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। পথসভা, পরিবর্তনযাত্রার পর ব্রিগেডে সভা হয়েছে। এখন ব্রিগেডের ভিডিও ফুটেজ, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের রেকর্ডিং নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাওয়া হবে। দলের রাজ্য সহ সভাপতি তথা ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন বলেন, এখন জনসংযোগে জোর দেওয়া হবে।