সংবাদদাতা, কান্দি: মাথায় সাদা কাপড়ে বাঁধা একগুচ্ছ দলিল দস্তাবেজ। ডান হাতে ঝুলছে নাইলনের ব্যাগ ভর্তি মাটি। পুঁটুলির পাশে ঝুলছে হ্যারিকেন, কেরোসিন, লম্ফ সহ পূর্বপুরুষের ব্যবহৃত সামগ্রী। বুকে ও পিঠে কমপিউটার প্রিন্ট করা ‘পরিবার পঞ্জি’। এই অবস্থায় প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছলেন প্রৌঢ়। বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনা ভরতপুর ১ ব্লকের ডাঙাপাড়ার। ডাঙাপাড়ার ওই প্রৌঢ় কেবির শেখের দাবি, তিনবার নথি জমা করেও সমাধান হয়নি। তাই চারবারের বেলায় এসব সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন তিনি।
এদিন সকাল ১০টা নাগাদ ওই সমস্ত সামগ্রী নিয়ে বাড়ি থেকে হাঁটা শুরু করেন তিনি। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তিনি ভরতপুর ১ বিডিও অফিসে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছে যান। তবে মাঝ পথে বহুবার তাঁকে থামতে হয়েছে স্থানীয়দের কাছে তাঁর এই কাজের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে। কেবির সাহেব বলেন, গত একমাস ধরে এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত। কখনো নোটিস করে এই কাগজ চাইছে, কখনো ওই কাগজ চাইছে। তাতেও ওদের মন ভরছে না। তিনবার এইসব হওয়ার পর, এবার চার পুরুষের যাকিছু নথি ছিল সব নিয়ে এসেছি। এমনকি দাদুর কবরের মাটিও ঝোলায় নিয়ে এসেছি। দাদুর ব্যবহৃত হ্যারিকেনটাও সঙ্গে নিয়েছিল। ঠাকুরমার কেরোসিনের লম্ফও নিয়েছি। আর পুঁটুলিতে রয়েছে আমার, বাবার, দাদুর ও ছেলেদের নামের দলিল দস্তাবেজ। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্কের বই যতটা পেরেছি সব বাড়ি থেকে বয়ে নিয়ে এসেছি। পাঁচ পুরুষের পরিবারের তালিকাও বুকে ও পিঠে সেঁটে দিয়েছি। এবার আর হয়রানি হতে হবে বলে মনে হয় না।
কেবির সাহেবের স্ত্রী আহ্লাদি বিবি বলেন, স্বামী গত একমাস ধরে মাঠে পর্যন্ত যেতে পারেননি এই নোটিসের কারণে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাগজ নিয়ে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। একটি মানুষ আর কত অত্যাচার সহ্য করতে পারে? শুধু স্বামীর নয়, বাড়ির দুই ছেলে সহ চারজনের নামে নোটিস আসছে বারবার।
এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য হুলস্থুল পড়ে যায়। শুনানি কেন্দ্রে প্রৌঢ়কে গোল করে ঘিরে ধরে রসিকতাও করতে থাকেন অনেকে। কেবির সাহেব বলেন, যার জ্বালা সেই বোঝে। এছাড়া আর কিছু করার ছিল না। ভরতপুর ১ বিডিও দাওয়া শেরপা বিষয়টি খোঁজ নেবেন বলে জানিয়েছেন।