


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার আড়ষা থানায় পুলিসি অত্যাচারে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় নয়া মোড় নিয়েছে। মৃত যুবক বিষ্ণু কুমারের(৩৪) পরিবারের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, তারা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুশি নয়। দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য মৃতের ভাই সমন কুমার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে বিষ্ণুর দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। আগামী ৭ আগস্ট কল্যাণী এইমসে দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৩১ জুলাই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এই মামলার প্রথম শুনানি হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কেস গণ্ডগোলে আছে, দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম লাগবে।’ তবে, সেদিনের শুনানিতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ তিনি দেননি। বরং দেহটি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে পুলিসকে কেস ডায়েরি নিয়ে তলব করেছিলেন। সোমবার আড়ষা থানার দুই পুলিস অফিসার বিচারপতির এজলাসে হাজির হন। তাঁরা কেস ডায়েরি জমা দেন। এদিন বিচারপতি অবশ্য বলেন, ‘তদন্তের বিষয়ে আমি এখনই কিছু মন্তব্য করছি না। তবে আমি পোস্টমর্টেম রিপোর্টে মোটেই সন্তুষ্ট নই।’
উল্লেখ্য, মোবাইল চুরির অভিযোগে গত ১৬ জুলাই আড়ষার বাসিন্দা বিষ্ণু কুমারকে(৩৪) থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ১৯ জুলাই যুবকের মৃত্যু হয়। ২০ জুলাই দেহের ময়নাতদন্ত হয়। এদিনের শুনানিতেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পচন ধরে গিয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। সেই রিপোর্টের কথা তুলে ধরে রাজ্যের আইনজীবী জানান, ‘ময়নাতদন্তের সময় থেকে প্রায় ১৮-১৯ ঘণ্টা আগে যুবকের মৃত্যু হয়েছে।’ যুবকের মৃত্যু ও পচন ধরে যাওয়ার কারণ হিসেবে যুবকের অতিরিক্ত মদ্যপানের দিকেও ইঙ্গিত করতে দেখা যায় তাঁকে। পাল্টা বিচারপতির প্রশ্ন, ‘১৮-১৯ ঘণ্টায় সব পচন ধরে যাচ্ছে, এটা সম্ভব?’
তাছাড়া, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট যেভাবে লেখা হয়েছে, তা আদালতকে ‘বিভ্রান্ত’ করছে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতির। রাজ্যের আইনজীবী মেনে নেন, ‘রিপোর্ট লেখার সময় শব্দচয়নে ভুল হয়েছে।’ তবে, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত আটকাতে সবরকম চেষ্টা করতে দেখা যায়। যদিও বিচারপতি বলেন, ‘দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত না করাটা ভুল হবে। মৃতের পরিবারের কাছে তাহলে বিচার পাওয়ার আর কোনও বিকল্প থাকবে না।’ তবে, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য সবদিক বিচার বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার অধীনস্থ কল্যাণী এইমসেই দেহের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি।
এদিনের রায় প্রসঙ্গে মৃতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, বিচার ব্যবস্থার উপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এই মামলার অন্যতম আইনজীবী সাগ্নিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পর থেকে দেহে পচন শুরু হয়। এক্ষেত্রে যদি ১৮-১৯ ঘণ্টার মধ্যেও ময়নাতদন্ত হয়, তাহলেও লিভার, কিডনি সহ প্রায় বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে কীভাবে পচন ধরে? এতে কিছু যে অসঙ্গতি রয়েছে, তা বুঝেই দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।’ বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, এবার আসল সত্য উদঘাটিত হবে।