Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চার বছর পর বিধানসভায় পেশ ক্যাগ রিপোর্ট, উম-পুনের ক্ষতিপূরণ ও ত্রাণবিলি, স্বাস্থ্যসাথীর ব্যাপক দুর্নীতি প্রকাশ্যে

চার বছর পর বৃহস্পতিবার বিধানসভায় জমা পড়ল কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) বা ক্যাগের ২৮টি রিপোর্ট। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের এই রিপোর্টে প্রকাশ্যে এসেছে পুর্বতন সরকারের আমলে হওয়া ত্রাণ সহ নানা বিষয়ের দুর্নীতির তথ্য।

চার বছর পর বিধানসভায় পেশ ক্যাগ রিপোর্ট, উম-পুনের ক্ষতিপূরণ ও ত্রাণবিলি, স্বাস্থ্যসাথীর ব্যাপক দুর্নীতি প্রকাশ্যে
  • ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চার বছর পর বৃহস্পতিবার বিধানসভায় জমা পড়ল কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) বা ক্যাগের ২৮টি রিপোর্ট। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের এই রিপোর্টে প্রকাশ্যে এসেছে পুর্বতন সরকারের আমলে হওয়া ত্রাণ সহ নানা বিষয়ের দুর্নীতির তথ্য।  

Advertisement

এদিন বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (অডিট-১) বিভু দত্ত বসন্তিয়া, পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (অডিট-২) মনীশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড এনটাইটেলমেন্ট) অনিন্দ্য দাশগুপ্ত সহ অন্যান্য সিএজি’র পদস্থ কর্তারা সাংবাদিকদের সামনে রিপোর্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলে ধরেন। তাতেই দেখা যাচ্ছে, সুপার সাইক্লোন ‘উম-পুন’ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ‘অতিরঞ্জিত ও অবাস্তবভাবে বেশি’ চেয়েছিল পুর্বতন সরকার। ২০২০ সালের ২০ মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়েছিল এই সুপার সাইক্লোন। সিএজি’র অডিট নথি অনুযায়ী, উম-পুনের পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড থেকে ৩৫ হাজার ১৮ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় সহায়তা চেয়েছিল। বাস্তবে দেখা গিয়েছে, রাজ্য মাত্র ২,৭০৭ হাজার ৭৭ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ছিল এবং সেই অর্থই বরাদ্দ হয়েছিল রাজ্যের জন্য। 
৯,২২৬ উপভোক্তাকে একাধিকবার বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হয়েছে। যার অঙ্ক ১৮.০৭ কোটি টাকা। কেন্দ্রের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ২১৮.০৪ কোটি টাকা এসডিআরএফ’র বাইরে রাখা হয়েছিল, যার ফলে ৪.৫১ কোটি টাকার সুদের ক্ষতি হয় বলে অডিটে জানানো হয়েছে। ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ফসলের ক্ষতির জন্য সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ৪,৬১,০৩১ জনের মধ্যে ১,৭৭৯ জন একাধিকবার সহায়তা পান, যার ফলে ২২.৮৩ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত প্রদান হয়েছে। এছাড়াও যুবশ্রী প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে  ৩১টি প্রাইভেট  হাসপাতালকে  বিধিবহির্ভূতভাবে ‘এমপ্যানেলড’ করা হয়েছিল। এতে অতিরিক্ত খরচ হয় ১৪ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা। একই সঙ্গে রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে রিপোর্টে। দেখা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৯,৭২৭ কোটি টাকায় এবং ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ রাজ্যের বকেয়া গিয়ে পৌঁছেছে ৭ লক্ষ ১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকায়। তবে ইতিবাচক দিক হল, ২০২৪-২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের জিএসডিপি ৯.৯১ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রিপোর্ট। ২০২৪-২৫ সালে রাজস্ব ঘাটতি ৩৯,৭২৭ কোটি টাকা, যা জিএসডিপি’র ২.১৯ শতাংশ। আবার দেখা গিয়েছে, রাজ্যের মোট রাজস্ব প্রাপ্তির মধ্যে ৫২ শতাংশই এসেছে কেন্দ্রের কাছ থেকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ