শব ব্যবচ্ছেদ: মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শব ব্যবচ্ছেদ না করে এআই বা থ্রি ডি ইমেজিং ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তার সেই প্রস্তাব মানলে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল কলেজ তুলে দিতে হয়। তাহলে আর গিয়ে ক্লাস করে কী লাভ? সব জায়গায় ভার্চুয়াল ক্লাস করলেই হয়? সোমবার রাজ্যে মরণোত্তর দেহদান আন্দোলনের পুরোধা সংগঠন গণদর্পণ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিশিষ্টজনরা এই ভাষাতেই মন্ত্রীর মন্তব্যকে কটাক্ষ করেন। তাঁরা বলেন, মন্ত্রী আসলে ভেবেচিন্তেই প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর জ্যোতি বসুর নামোল্লেখসহ রাজ্যের চার দশকের দেহদান আন্দোলনকে জেনেবুঝে আঘাত করেছেন। বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, সংবিধানেই বিজ্ঞানমনস্কতার কথা বলা হয়েছে। দেহদানের বিষয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য বিজ্ঞানমনস্কতার বদলে মানুষকে বরং পিছিয়ে দেয়। তাঁর ওই মন্তব্য তাই‌ সং঩বিধানবিরোধী। প্রবীণ কার্ডিয়োথোরাসিক সার্জন ডাঃ সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী বলেন, মন্ত্রী তো ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের বিরোধী কথাবার্তা বলছেন। এমবিবিএসে শব ব্যবচ্ছেদ আব঩শ্যিক। প্রথম বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে আমেরিকায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই শব ব্যবচ্ছেদ করেই অ্যানাটমি শেখানো হয়। বিশিষ্টরা জানান, চার দশকের চেষ্টায় রাজ্যে মরণোত্তর দেহ ও চক্ষু বা কর্নিয়াদান জনপ্রিয় হয়েছে। ব্রেনে ডেথের পর অঙ্গদানের ভিত্তিভূমি তৈরি হয়েছে। প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ অঙ্গীকারপত্রে সই করেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর মন্তব্য বিভ্রান্তিকর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ কাজলকৃষ্ণ বণিক বলেন, এইসব না করে বরং অঙ্গদান ও দেহদান নিয়ে প্রতি মেডিকেল কলেজে হোর্ডিং বসাক সরকার। দেহ বা অঙ্গদানে ইচ্ছুক পরিবারকে সাহায্য করতে ২৪ ঘণ্টার ফোন নম্বর জানান। সরকারি আই ব্যাংকগুলিকে বাঁচাক।

Advertisement