Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উন্নয়ন অস্ত্রে বাজিমাত, নাম ঘোষণা হতেই পাঁচ গুণ বেশি কাজের অঙ্গীকার বাইরনের

মন্ত্রী সুব্রত সাহার প্রয়াণের পর সাগরদিঘির রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলে গিয়েছিল। উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধানসভায় পৌঁছেছিলেন বাইরন বিশ্বাস।

উন্নয়ন অস্ত্রে বাজিমাত, নাম ঘোষণা হতেই পাঁচ গুণ বেশি কাজের অঙ্গীকার বাইরনের
  • ১৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সবুজ বিশ্বাস, জঙ্গিপুর: মন্ত্রী সুব্রত সাহার প্রয়াণের পর সাগরদিঘির রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলে গিয়েছিল। উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধানসভায় পৌঁছেছিলেন বাইরন বিশ্বাস। তারপর রাজনীতির জল গড়াতেই কংগ্রেস ছেড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়ের হাত ধরে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান বাইরন। সেই থেকে তাঁর লক্ষ্য একটাই, তা হচ্ছে এলাকার উন্নয়ন। গত আড়াই বছরে তাঁর হাত ধরে সাগরদিঘি এলাকায় কয়েক কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে দাবি বিধায়কের। এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তা মানছেন বাসিন্দারাও। এবার তৃণমূলের টিকিট পেতেই সেই উন্নয়নের গতি আরও পাঁচগুণ বাড়ানোর আশ্বাস দিচ্ছেন বাইরন। প্রশ্ন উঠছে, এই উন্নয়নই কি আগামী দিনে সাগরদিঘির মানুষের মন জয়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে? যদিও এনিয়ে কটাক্ষ করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।

Advertisement

২০২৩ সালে সাগরদিঘি উপ-নির্বাচনের ফলাফল ছিল গোটা রাজ্যের কাছে একটা বড় চমক। তবে সেই জয়ের পর রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বাইরন এখন শাসক দলের বিধায়ক। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, গত আড়াই বছরে এলাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জল ও গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে, তা সাম্প্রতিক অতীতে বিরল। বিধায়কের কথায়, ৭০ কোটি টাকার কাজ গত কয়েক বছরে তিনি করেছেন। তবে সেটা কেবল শুরু। আগামী দিনে আরও কয়েকশো কোটি টাকার প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, মাঠের লড়াইয়ে বাইরনের তুরুপের তাস এখন উন্নয়ন। বিরোধীদের অবশ্য দাবি, বাইরনের দলবদলকে সাধারণ মানুষ সহজভাবে নেয়নি। মানুষের রায়কে তিনি অসম্মান করেছেন। তার প্রভাব ভোট বাক্সে পড়বে।
তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, সুব্রত সাহার পর এলাকায় যে স্থবিরতা এসেছিল, তা কাটাতে বাইরন সক্রিয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সর্বত্রই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। সাগরদিঘির মালিয়াডাঙার বাসিন্দা মহম্মদ হানিফ বলেন, আগের থেকে রাস্তাঘাট অনেক ভালো হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ এসেছে। তবে কিছু এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। সাগরদিঘি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থাকলেও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা আরও ভালো হওয়া দরকার। জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষ বলেন, আগে তৃণমূল প্রার্থী ভোটে জিতুক। কে কী কাজ করবে, তা সাধারণ মানুষ দেখতে পাবে। 
তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বলেন, ‘আমার উপর আস্থা রাখার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি এই আড়াই বছরে এলাকায় ৭০কোটি টাকার কাজ করেছি। এতে অবশ্য সকলের অবদান রয়েছে। আবার সুযোগ পেলে আরও পাঁচগুণ বেশি কাজ উন্নয়ন হবে।’ 
উন্নয়নের এই খতিয়ান পেশ করে সাগরদিঘির সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগুরু উভয় ভোটব্যাংকেই আশ্বস্ত করতে চাইছেন বাইরন। তবে রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, কেবল টাকার অংক দিয়ে মানুষের মন পাওয়া সহজ নয়। দলবদলের অস্বস্তি কাটিয়ে সাগরদিঘির প্রতিটি ঘরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছলে তবেই আগামী নির্বাচনে তাঁর সাফল্যের পথ প্রশস্ত হবে। এখন দেখার, এই পাঁচগুণ বেশি কাজের গ্যারান্টি আমজনতার ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ