Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যবসা আপনাদের হক, কেউ জুলুম করলে এফআইআর করুন: মুখ্যমন্ত্রী

ব্যবসা আপনাদের হক, কেউ জুলুম করলে এফআইআর করুন: মুখ্যমন্ত্রী
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের মধ্যে দিয়ে বাংলাকে দেশের উন্নয়নের মানচিত্রে এক নম্বর স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকেও উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলা অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে সর্বোতভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে এটাও ঘোষণা করে দিলেন, কেউ জুলুম করলে এফআইআর করুন। 
Advertisement
বস্তুত, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বার্তা দেওয়া হয়েছে, বাংলায় আছে শিল্পবান্ধব পরিবেশ। বিনিয়োগের গন্তব্যস্থল। বাংলায় আসুন। বিনিয়োগ করুন। সবরকমভাবে পাশে আছে রাজ্য সরকার। সেই সূত্রে এটাও দেখা গিয়েছে, বাংলাকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসর প্রতিদিনই বাড়ছে। বড়বাজার, পোস্তা সহ সংলগ্ন এলাকা চাল, ডাল, মশলপাতির বৃহৎ বাণিজ্য কেন্দ্র। প্রতি বছরের মতো এবারও পোস্তায় জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সেখানে পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 
ওই মঞ্চ থেকেই বাম আমলের প্রসঙ্গ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বড় বাজার, পোস্তা বাজার এলাকায় আগে থানা ছিল না। আগুন লাগলে দমকলের গাড়ি প্রবেশ করতে পারত না। কেউ এলাকার খেয়াল করত না। আমরা এসে সবকিছু করেছি। এরপরই ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, আগে অনেক জুলুম হতো। এখন কেউ জুলুম করলে, আপনাদের উচিত থানায় এফআইআর করা। কারণ ব্যবসা আপনাদের হক। অর্থাৎ এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, জুলুমবাজি কোনও অবস্থায় বরদাস্ত করবেন না। আর কেউ যদি জুলুম করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবেন না। যেকারণে এফআইআর দায়ের করার বার্তা খোলা মঞ্চ থেকে দিয়েছেন তিনি। 
করোনার সময় পোস্তা এলাকায় ছুটে গিয়ে সবরকম ব্যবস্থা করে বাজার খোলার ব্যবস্থা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যার জেরে ব্যবসায়ীরা লোকসানের হাত থেকে রেহাই পান। সেই ঘটনার কথাও তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, জমির যে সমস্যা আছে, তা দ্রুত সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিষয়টি দেখবেন। রাজ্য সরকারের পাশে তাঁরা সর্বোতভাবে আছেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন পোস্তার ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি সীতানাথ ঘোষ।
তবে পোস্তা-বড়বাজার এলাকায় তৃণমূলের বাক্সে ভোট আসছে না, সেটাও মমতার বক্তব্যে উঠে এসেছে। যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আমি ভোটের জন্য আসিনি। কোকিলের মতো এসে কুহু কুহু করে চলে যাই না। ৩৬৫ দিন পাশে থাকি। বড়বাজার-পোস্তা এলাকার একমাত্র ৪২ নম্বর ওয়ার্ডটি তৃণমূলের। কিন্তু বাকি তিনটি ওয়ার্ড বিজেপির।
ভোট এলেই বিজেপি ভেদাভেদের রাজনীতি করে, সেই অভিযোগ আগেও করেছে তৃণমূল। তাতে শহরাঞ্চলের মানুষের একটা অংশ বিজেপিকে সমর্থন দিতেও দেখা গিয়েছে। এই অবস্থায় মমতা বার্তা দিলেন, বাংলাকে নিজের ঘর ভেবে থাকুন। এটা হল মিনি ইণ্ডিয়া। এখানে ধর্ম-জাত-খাবার নিয়ে কোনও ভোদাভেদ নেই। এদিন পোস্তা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হুগলির চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বর এলাকার ১০টি জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা ও হুগলি মিলিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী মলয় ঘটক, শশী পাঁজা, ইন্দ্রনীল সেন, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
সম্পর্কিত সংবাদ