


লন্ডন: নাটকীয়তার ভরপুর লর্ডসে অপেক্ষা শেষদিনের থ্রিলারের। পেন্ডুলামের মতো এপাশ-ওপাশ দুলছে তৃতীয় টেস্টের ভাগ্য। কখনও দেখাচ্ছে অ্যাডভান্টেজ ভারত। কখনও আবার ম্যাচে ফিরছে ইংল্যান্ড। রবিবারের শেষ বলে ‘নৈশপ্রহরী’ আকাশদীপের বোল্ড আরও টানটান উত্তেজনার মধ্যে রাখল ক্রিকেটপ্রেমীদের। ১৯৩ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করে চার উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ ৫৮। আউট যশস্বী জয়সওয়াল, করুণ নায়ার, শুভমান গিল, আকাশদীপ। প্রথম ইনিংসের শতরানকারী লোকেশ রাহুল অবশ্য ক্রিজে আছেন। কিন্তু জেতার জন্য দরকার আরও ১৩৫ রান।
সোমবার সকালের সেশন এই আবহে খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত একটা বড় জুটি দরকার। কিন্তু বাইশ গজে বল পড়ে কখনও নীচু হচ্ছে, আচমকা লাফাচ্ছে। ভারতের চার উইকেট ফেলে দেওয়াও উদ্দীপ্ত করছে হোমটিমকে। তাদের চাই আর ছয় উইকেট। আসলে যশস্বী, করুণদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংই চাপে ফেলল ভারতকে। করুণকে অবিলম্বে বসানো দরকার। যশস্বীরও শেখা উচিত উল্টোদিকের রাহুলকে দেখে। গিলের এলবিডব্লু অবশ্য সবচেয়ে মোক্ষম ধাক্কা। এখন যা সমীকরণ, তাতে পাঁচ টেস্টের অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে ২-১ এগিয়ে যাওয়ার সোনার সুযোগ রয়েছে উভয় দলের সামনেই।
ভারতীয় ব্যাটিংয়ে হুড়মুড় করে চার উইকেট পড়ার আগে অবশ্য বেন স্টোকসদের সাধের ‘বাজবল’-র ফানুস চুপসেই ছিল। চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই কাঁপছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে দু’দলই ৩৮৭ তোলার পর এই টেস্ট হয়ে উঠেছিল এক ইনিংসের খেলা। সেই পরিস্থিতিতে শেষ সেশনে ইংল্যান্ড থামে ১৯২ রানে। সকালে মহম্মদ সিরাজ রীতিমতো আগুন ঝরিয়ে ভাঙেন বিপক্ষকে। লাঞ্চের পর ওয়াশিংটন সুন্দর প্রায় তুর্কিনাচন নাচান ব্যাটারদের। ২২ রানের বিনিময়ে তাঁর একারই শিকার ৪ উইকেট। এর প্রতিটাই বোল্ড! এইসময় বিধ্বংসী মেজাজে দেখাল বুমরাহকেও। দুই ইনিংস মিলিয়ে ইংল্যান্ডের ২০ উইকেটের মধ্যে ১২জন বোল্ড। ১৯৫৫ সালের পর কোনও টেস্টে যা সর্বাধিক।
আসলে ভারতের পেস ও স্পিনের সাঁড়াশি আক্রমণে হাঁসফাঁস করল ইংল্যান্ড। একসময় তো আগ্রাসী ক্রিকেট ভুলে জো রুটরা মন দিলেন ঠুকঠুক ব্যাটিংয়ে। তা দেখে খোঁচা দিয়ে ধারাভাষ্যকার দীনেশ কার্তিক বলে ফেললেন, ‘বাজবল নয়, ইংল্যান্ড ডট বল খেলছে।’ ভাগ্যিস আম্পায়াররা এদিন সহায় ছিলেন ইংল্যান্ডের। প্রথম সেশনেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। ষষ্ঠ ওভারে প্রথম উইকেট নেওয়ার পর সিরাজের আগ্রাসন ছিল নজরকাড়া। ওলি পোপও তাঁর শিকার। হ্যারি ব্রুক হঠাত্ চালাতে শুরু করলেও দ্রুত ফেরেন। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা রুট অবশ্য একপ্রান্ত আগলে ছিলেন। ক্যাপ্টেন স্টোকসও ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে সঙ্গ দেন তাঁর। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের জুটিতে ওঠে ৬৭। এই সময়ই রুটকে বোল্ড করে ভারতীয় শিবিরকে স্বস্তি দেন ওয়াশিংটন। স্টোকস, জেমি স্মিথ, শোয়েব বশিরও তাঁর শিকার।