


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: আদিবাসী সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে ধামসা, মাদলও রেগড়া। বসন্ত এলেই আদিবাসী মানুষের দেহ মনে ছন্দের দোলা লাগে। বাদ্যযন্ত্র জোগাড়ে শুরু হয় তোড়জোড়। বিনপুর-২ ব্লকের কুড়চিবনী গ্ৰামের ঘরে, ঘরে ধামসা ও মাদল তৈরির কাজে এখন তুমুল ব্যস্ততা ।
জঙ্গলঘেরা এই গ্ৰামে গ্ৰামে বাহা বঙ্গা বা ফুলের পরব শুরু হয়েছে। আদিবাসী নারী ও পুরুষ পূর্ণিমার চাঁদ ওঠার দিন ধামসা, মাদল সহযোগে নাচ, গানে মাতবেন। গ্ৰামের মানুষ পুরানো ধামসা , মাদল ও রেগড়া সারিয়ে নিচ্ছেন। ধামসা, মাদল কেনার জন্য অনেকে আবার কুড়চিবনী গ্ৰামে ভিড় জমাচ্ছেন। ঝাড়খন্ডের চাকুলিয়া, উড়িষ্যার বারিপদা, বাঁকুড়া জেলার ফুলকুসমা থেকে ক্রেতারা দল বেঁধে আসছেন কুড়চিবনী গ্রামে। কুড়চিবনী গ্ৰামের সাত ঘর বংশ পরম্পরায় ধামসা, মাদল, রেগড়া নিজেদের হাতে তৈরি করেন। ধামসার কাঠামো লোহার পাত দিয়ে তৈরি হয়। যাকে ‘চাদরা’ বলে। চাদরার উপর চামড়া বসিয়ে ধামসা তৈরি হয়। কামারদের থেকে ঠিকভাবে চাদরা তৈরি করিয়ে নিতে হয়। ‘তালা’ ও ‘বাদিতে’ পৃথক চামড়া বসাতে হয়। সব শেষে গাব দিয়ে তা সমান করতে হয়। কাজে দক্ষতা না থাকলে ভালো ধামসা তৈরি করা যায় না। মাদল মাটির খোল দিয়ে হয়। রেগড়া লোহার পাত ও কাঠ দিয়েও তৈরি হয়। জোড়া মাদল তৈরিতে ২ হাজার ৫০০ টাকার মতো খরচ পড়ে। যা বিক্রি হয় পাঁচ হাজার টাকায়। জোড়া ধামসা তৈরিতে খরচা হয় ৫ হাজার টাকা। আট থেকে নয় হাজার টাকায় যা বাজারে বিক্রি হয়। জোড়া রেগার দামও তিন হাজার টাকার উপরে। কুড়চিবনী গ্ৰামের বাসিন্দা অরুণ রুইদাসের কথায়, ধামসা ও মাদল তৈরির জন্য এই গ্ৰাম পরিচিত। গ্ৰামের কুড়িঘর বাসিন্দা আগে ধামসা, মাদল তৈরি করত। এখন সাত, আট ঘর বাসিন্দা এগুলি তৈরি করে। বংশ পরম্পরায় আমরা একাজ করে চলেছি। আদিবাসী সমাজে বছরভর পরব লেগে রয়েছে। তবে এই সময় বিক্রি বেশি হয়। গ্ৰামের অপর বাসিন্দা শঙ্কর রুইদাস বলেন, ধামসা, মাদল ও রেগড়া তৈরি করা পরিশ্রমের কাজ। সেই সঙ্গে লাগে দক্ষতা। ধামসা, মাদল বানিয়েই আমাদের সংসার চলে।
তরুণ শ্রীমন্ত রুইদাসের কথায়, মাধ্যমিক পাস করেছি। ছোট থেকেই ধামসা, মাদল , রেগড়া তৈরির কাজ দেখছি। অন্য কিছু না করে একাজেই এখন নেমে পড়েছি। আসলে গান, বাজনা আমাদের রক্তে। তাই তো ধামসা, মাদল শুনলে মনটা কোথায় যেন ছন্দে হারিয়ে যায়। -নিজস্ব চিত্র