


ঢাকা: লোকজনের কোলাহলে তখন মুখরিত পন্টুট চত্বর। কিছুক্ষণের মধ্যে ‘সৌহার্দ্য পরিবহণের’ বাসটি ফেরি ধরবে। সবাই যখন যাত্রাশুরুর প্রহর গুনছেন, তখনই দুর্ঘটনা। মুহূর্তে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেল বাসটি। বাড়ি ফেরা আর হল না অনেকের। বুধবার বিকালে বাংলাদেশের দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি দুর্ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। তাদের মধ্যে ১১ জন মহিলা এবং ৮ শিশু। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল একথা জানিয়েছেন।
বুধবার কুষ্ঠিয়ার কুমারখালি থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা হয় বাসটি। বিকালে পদ্মানদীর ঘাটে বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। হঠাৎই তিন নম্বর পন্টুট থেকে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। নদীতে তখন তীব্র স্রোত। তাই দেহগুলি ভেসে যায় অনেক দূর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজবাড়ি ছাড়াও গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ, দিনাজপুর, কুষ্ঠিয়া ও ঢাকা থেকেও দেহ উদ্ধার হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজবাড়ি সদর হাসপাতাল থেকে ২৩ জনের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দু’টি দেহ তুলে দেওয়া হয় স্বজনহারাদের হাতে। বাকি দেহগুলির হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। দেহগুলি এলাকায় পৌঁছতেই শোকে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এখনও বহু দেহের খোঁজ নেই। তাই মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় নিখোঁজের সন্ধানে হাসপাতাল-প্রশাসন করে বেড়াচ্ছেন স্বজনহারারা। বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ঘটনায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় তদন্ত কমিটিকেই তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃতের পরিজন। বৃহস্পতিবার এএফপির তোলা ছবি।