নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: একটা সময়ে জামুড়িয়া পৃথক পুরসভা ছিল। পরবর্তীকালে বৃহৎ আসানসোল কর্পোরেশনের আওতায় আসে। স্থানীয়দের জন্য অনেক কিছু কাজ হলেও কিন্তু উন্নত হয়নি শহরের লাইফ লাইন তথা বাস পরিষেবা। দিনের বেলায় হাতেগোনা কিছু বাস চলে। এছাড়াও প্রচুর সংখ্যক টোটো চলে। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই এই শহরের বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। আসানসোল বা রানিগঞ্জ থেকে কেউ জামুড়িয়া আসা যাওয়া করতে চাইলে তাঁকে মোটা টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করতে হয়। সেই সামর্থ না থাকলে জামুড়িয়ায় ফেরার কোনো উপায় নেই। যাঁদের বাড়িতে ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, তাঁরা সকলেই এই সমস্যার সম্মুখিন। একটা সময়ে এই সমস্যাও মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জামুড়িয়া শহরটি জাতীয় সড়কের উপরে নয়। তাই দুরপল্লার বাসগুলি জামুড়িয়া শহরের ভিতরে ঢোকে না। জামুড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে যোগাযোগ মূল মাধ্যম ছিল মিনিবাস। আসানসোল, রানিগঞ্জ থেকে জামুড়িয়া রুটে বহু মিনিবাস চলত। বিভিন্ন জনপ্রিয় ট্রেন যেমন কোলফিল্ড, অগ্নিবিনা(বিধান) ট্রেন ধরতে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য কোলফিল্ড টিপ, বিধান টিপ নামে নানা মিনি বাস চলত। কিন্তু টোটোর অতিরিক্ত সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাসের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। বাসের রুটে টোটো চলাচল করতে থাকায়। স্থানীয় এলাকার মধ্যে যাতায়াত করা মানুষজন টোটোয় চাপা শুরু করে। বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে বাস মালিক ও চালক খালাসিরা। এই অবস্থায় একের পর এক বাস বন্ধ হতে থাকে। টোটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বারবার বাস মালিক কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের কাছে দরবার করলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। একের পর এক বাস বন্ধ হতেই থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যাতে, বিকেলের পর আসানসোল, রানিগঞ্জ থেকে জামুড়িয়া যাওয়ার বাস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বৃহৎ সংখ্যক জামুড়িয়াবাসী সমস্যায় ভুগতে থাকেন। ভোট প্রচারে গিয়ে বিষয়টি নজরে পড়েছিল জামুড়িয়ার বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায়ের। ভোটে জিতে বিধায়ক হতেই সেই বন্ধ বাস পরিষেবা চালু করতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই আসানসোল মিনি বাস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কথা বলে বাস পরিষেবা চালু করার আর্জি করেছেন।
জামুড়িয়ার বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায় বলেন, বহু গরিব মানুষ এই বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া বাসগুলি চালু করাতে হবে। আমি বাস মালিক সংগঠনকে অনুরোধ করেছি। আসানসোল মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রায় বলেন, জামুড়িয়ায় বিধায়ক আমাদের কাছে বাস চালানোর আর্জি করেছেন। বিধায়ক হয়ে এই আর্জি আমাদের চোখে অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা আমাদের কিছু সমস্যা জানিয়েছি। আশাকরি দ্রুত জটিলতা কাটিয়ে পুরনো বাসগুলি চালু করানো সম্ভব হবে।