Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মালিক-কর্মী বিরোধে বন্ধ ৪২ নম্বর বাস, চরম ভোগান্তি

হাওড়ার ৪২ নম্বর বাস পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় অফিস যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। মালিক-কর্মী বিরোধের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

মালিক-কর্মী বিরোধে বন্ধ ৪২ নম্বর বাস, চরম ভোগান্তি
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আচমকাই বন্ধ হয়ে গেল হাওড়ার দানেশ শেখ লেন-নিউটাউন রুটের ৪২ নম্বর বাস পরিষেবা। বৃহস্পতিবার সকালে অফিস টাইমে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী বহু যাত্রী। গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে বাস বন্ধের জেরে সকাল থেকেই বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

Advertisement

জানা গিয়েছে, বাসের মালিকপক্ষ ও কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই রুটে মোট ৩০টি বাস চলাচল করে। কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও মালিকপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ করেনি। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাস অচল হয়ে পড়েছে এবং একাধিক গাড়ির বিমার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে। এইসব সমস্যার সমাধানের দাবি জানাতে গেলে মালিকপক্ষ উলটে বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ। বাসকর্মী মহম্মদ সাজিদ বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমরা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছি। বেশ কিছু বাসের অবস্থা খারাপ, ইনস্যুরেন্স ফেল করেছে। বারবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এইসব দাবি নিয়ে আলোচনায় বসলে মালিকপক্ষ আচমকাই বাস চালানো বন্ধ করে দেয়।’ অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি অজয় অধিকারীর দাবি, কর্মচারীদের একাংশ নিয়মিত সময় মেনে বাস চালাচ্ছে না। বিভিন্ন অজুহাতে বাস পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে মালিকদের। বহুবার আলোচনা করেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিন দানেশ শেখ লেনে দুর্ভোগে পড়া অফিস-যাত্রীদের অনেকেই বলেন, ‘প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় হিসাব করেই বাস ধরব বলে স্ট্যান্ডে আসি। হঠাৎ জানতে পারলাম বাস বন্ধ। বহু অফিস যাত্রী এই রুটের বাসের উপর নির্ভর করেন। এখন শেষ মুহূর্তে অ্যাপ ক্যাব ধরা ছাড়া উপায় নেই।’ তবে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে দু’পক্ষই এদিন আলোচনায় বসে। স্থানীয় বিজেপি নেতা বরুণ বারিকদার বলেন, ‘মালিকপক্ষ ও কর্মচারীরা দ্রুত আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান সূত্র বের করুক। বাস পরিষেবা বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ