নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শব্দবাজি বলতে একসময় দীপাবলির সময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল বুড়িমার চকোলেট বোমা। পরিবেশরক্ষায় উচ্চমাত্রার শব্দবাজি এখন নিষিদ্ধ। তার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের গ্রিন আতশবাজি এনেছে নামকরা ব্র্যান্ডগুলি। তবে প্রতিযোগিতার এই বাজারেও একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রেখেছে বুড়িমার কিছু বাজি। অপারেশন সিন্দুরের গৌরবগাথা এবার আলোকবাজির মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছে তারা। বেলুড়ের পিয়ারীমোহন মুখার্জি স্ট্রিটে বুড়িমার বাড়িতে অর্জুন ট্যাঙ্ক, ড্রোন, হেলিকপ্টার কিনতে রীতিমতো হুড়োহুড়ি আট থেকে আশির।
প্রতিবছরের মতো এবারও কালীপুজোর আগে বুড়িমার বাড়িতে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন বয়সের ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ফুলঝুরি, চরকি, তুবড়ির পাশাপাশি ক্র্যাকলিং পপকর্ন, কালার চেঞ্জিং তুবড়ি, জোজো, থ্রি কিংস, অমর আকবর অ্যান্টনির মতো নানা আতশবাজির ব্যাপক চাহিদা। তবে সবার মন কেড়েছে যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের আদলে তৈরি বাজি। যেমন এবছরের হিট লিস্টে সবার উপরে রয়েছে অর্জুন ট্যাঙ্ক। এই ট্যাঙ্ক থেকে বের হবে তুবড়ির ফ্ল্যাশ। এরপর এরিয়াল শট। এক একটির দাম পড়ছে ৪০০ টাকা। এরপর রয়েছে ড্রোন। শুধু চারিদিকে ঘুরবেই না, রীতিমত ওঠানামাও করবে এই আতশবাজি। দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। সবার মন কেড়েছে হেলিকপ্টার। তুবড়ির মত ঘুরতে ঘুরতে আকাশে উঠবে এই বাজি, সঙ্গে নানা রঙের খেলা। পাঁচ পিসের একটি বাক্সের দাম ১৫০ টাকা। পাশাপাশি গত বছরের বিশেষ আকর্ষণ জয় হো বাজি এবারও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় আছে। হুগলির চন্দননগর থেকে আসা সম্রাজ্ঞী চক্রবর্তী বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুর সম্পর্কিত বাজিগুলো এবার বেশ লাগল। বাচ্চারা তো এগুলোই চাইছে।’ খুদে ক্রেতা রোহন ঠাকুর, ঋক সরকার বলে, ‘বাড়িতে গিয়ে ড্রোন ওড়াব। ট্যাংক কিনেছি অনেকগুলো।’ তামিলনাড়ুর কারখানায় তৈরি হয় বুড়িমার আতশবাজি। সেখানে প্যাকেজিংয়ের পর বাজি চলে আসে হাওড়ার বিভিন্ন স্টোর হাউসে। এরপর এরাজ্য ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হয়। বুড়িমার বর্তমান প্রজন্মের সদস্য সুমিত দাস বলেন, ‘এবছর বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কম। তবুও আমরা চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছি। এখন মূলত আলোকবাজির উপরই নতুনত্ব আনছি।’
বুড়িমা বাজির মূল কাণ্ডারী অন্নপূর্ণা দাস ১৯৪৮ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর চরম অনটনে শরণার্থী হয়ে এপার বাংলায় চলে আসেন। ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে অভাবের সংসার সামলাতে প্রথমে শুরু করেছিলেন বিড়ির ব্যবসা। এরপর সেলাইয়ের কাজ। শেষে একবার কালীপুজোর আগে শুরু করলেন বাজি বিক্রি। বুড়িমার চকোলেট বোমা ক্রেতাদের মন জয় করতেই আর ঘুরে তাকাতে হয়নি অন্নপূর্ণাদেবীকে। তাঁর উত্তরসূরীরা এখন সামলাচ্ছেন ব্যবসা।