ম্যাঞ্চেস্টার: চোট-আঘাত যশপ্রীত বুমরাহর কেরিয়ারে বার বার বাধা হয়ে উঠেছে। অদ্ভুত অ্যাকশনের জন্যই তিনি এতো বেশি চোটপ্রবণ। ছোট্ট রান-আপেও যে গতিতে তিনি বল করেন, তাতে প্রচণ্ড চাপ পড়ে পিঠ ও কোমরে। এজন্য বার বার চোটের কবলে পড়তে হয়েছে তাঁকে। চলতি ইংল্যান্ড সফরে সেজন্যই পাঁচ টেস্টের মধ্যে তিনটি ম্যাচে খেলবেন বলে জানিয়েছেন। সেই মতো অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফির চতুর্থ টেস্টই সিরিজে বুমবুমের শেষ টেস্ট হওয়ার কথা। তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে একেবারেই চেনা মেজাজে দেখা যায়নি তাঁকে। বলের গতি কমেছে অনেকটাই। এমনকী, ঘণ্টায় ১৪০ কিমির চেয়ে বেশি গতিতে মাত্র একটিই ডেলিভারি করেছেন। যা ভাবাই যায় না!
তার উপর শুক্রবার, ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের তৃতীয় দিনে পায়ের সমস্যায় বিব্রত দেখিয়েছে তাঁকে। গোড়ালিতে অস্বস্তি হচ্ছিল তাঁর। চায়ের বিরতির পর বল করার সময় মনে হচ্ছিল ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। ছন্দে না থাকায় এই টেস্টে লজ্জার এক রেকর্ডও হজম করতে হয় বুমবুমকে। টেস্ট কেরিয়ারে প্রথমবার ইনিংসে একশোর বেশি রান দিয়ে ফেললেন তিনি। ৩৩ ওভার বোলিংও করতে হয়েছে তাঁকে। এই আবহেই টেস্ট ক্রিকেটে ৩১ বছর বয়সির ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টে সাদামাটা বোলিংয়ের পর প্রশ্ন উঠছে তাঁর ফিটনেস নিয়ে।
প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, বুমরাহকে ভবিষ্যতে আর টেস্ট খেলতে দেখা যাবে না। ও অবসর নিতেই পারে এই ফরম্যাট থেকে। টানা পাঁচদিন খেলার ধকল নেওয়ার মতো ফিটনেস ওর নেই। শরীর একেবারেই সঙ্গ দিচ্ছে না। তাই গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। এই টেস্টে তো একেবারে ঢিমে গতিতে বল করল।’ সিদ্ধান্তটা অবশ্য বুমরাহর উপরই ছেড়ে দিচ্ছেন কাইফ। তাঁর কথায়, ‘ও স্বাধীনচেতা মানুষ। যদি উপলব্ধি করে যে, একশো শতাংশ দিতে পারছে না, দলকে টেস্ট জেতাতে ব্যর্থ হচ্ছে, উইকেট আসছে না, তাহলে নিজেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে। আমার তো তেমনই মনে হচ্ছে।’
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার জোনাথন ট্রটও গলা মিলিয়েছেন কাইফের সঙ্গে। তাঁর মতে, ‘অন্য প্রান্ত থেকে কোনও সাহায্য পাচ্ছে না বুমরাহ। সঙ্গীরা ভালো বোলিং না করলে একার পক্ষে সব চাপ সামলানো মুশকিল। আর সেই কারণেই বুমরাহর কার্যকারিতা কমেছে। আকাশদীপ না খেলায় এই টেস্টে তো ভারতীয় পেস আক্রমণকে রীতিমতো নির্বিষ লাগল।’