


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এবার বাঁকুড়ায় আমের বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিরা দাম পাচ্ছেন না। বাজারে আম্রপালি, মল্লিকা সহ অন্যান্য আগের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও তাঁরা কম দামে আম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে বাগান চাষিরা অভিযোগ করছেন। পাঁচ টাকা কেজি দরেও আম বিক্রি হয়েছে বলে চাষিদের দাবি। ফলন বেশি হওয়ার বিষয়টি জানালেও কম দামে চাষিদের আম বিক্রি করার অভিযোগ জেলা উদ্যানপালন দপ্তর মানতে চায়নি।
বাঁকুড়া উদ্যানপালন দপ্তরের উপ অধিকর্তা পলাশ সাঁতরা বলেন, এবার বাঁকুড়া সহ রাজ্যের সব জেলাতেই আমের রেকর্ড ফলন হয়েছে। তবে চাষিদের কম দাম পাওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। বিষয়টি আমাদের কানেও এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে এব্যাপারে রটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
হীড়বাঁধের আমঝুড়ির বাসিন্দা সুবোধ সর্দার বলেন, আমার বাগানে ১৩০০ আম্রপালি গাছ রয়েছে। গতবার আম বিক্রি করে লাভ হয়েছিল। এবার পাঁচ-ছ’টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করেছি। নিম্নচাপ ও শিলাবৃষ্টির কারণে গাছেই বহু আম ফেটে গিয়েছে। ফলে এবার সামগ্রিকভাবে এলাকার আম চাষিদের ব্যাপক লোকসান হয়।
রানিবাঁধ ব্লকের ঝিলিমিলি এলাকার চাষি পার্থসারথি মণ্ডল বলেন, আমার তিন বিঘা জমিতে আমের বাগান রয়েছে। সেখানে মূলত আম্রপালি ও মল্লিকার চাষ হয়। ভালো ফলন হলে গড়ে বছরে এক টনেরও বেশি আম পাওয়া যায়। গতবার ১৮-২০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করেছি। এবার কেজি প্রতি ১০-১১ টাকার বেশি দাম পাচ্ছি না।
উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় সবচেয়ে বেশি আম্রপালির চাষ হয়। মল্লিকা, কেশর, দশেরী প্রজাতির আমবাগানও জেলার কিছু জায়গায় রয়েছে। গতবার জেলার বাগানগুলিতে মাত্র তিন হাজার মেট্রিক টন আম ফলেছিল। এবার জেলাজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন আম ফলেছে। জোগান বেড়ে যাওয়ার ফলে এমনিতেই আমের দাম শুরু থেকে কিছুটা কম ছিল। দিন যত গড়িয়েছে, ততই দর আরও নামতে থাকে। দাম না পেয়ে আম চাষিরা হতাশ। প্রসঙ্গত, প্রতিবার আমের ফলন এক হয় না। সাধারণত এক বছর অন্তর আমের বাম্পার ফলন হয়। ওই বছরকে ‘অন ইয়ার’ বলা হয়। ফলন কম হলে আম চাষিরা ‘জিরেন বছর’ বা ‘অফ ইয়ার’ বলে থাকেন। গতবার বাঁকুড়ায় ‘অফ ইয়ার’ ছিল। এবার প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে জেলায় বেশি আম ফলেছে।
একসময় রুখাশুখা বাঁকুড়ায় আম চাষের কথা কেউ ভাবতেই পারতেন না। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে প্রথম জেলায় বড় আমের বাগান তৈরি হয়। সরকারি উদ্যোগে হীড়বাঁধ, রানিবাঁধের মতো খরা প্রবণ ব্লকের উঁচু এলাকাগুলিতে আমের চারা রোপন করা হয়। জলাশয় খনন করে বৃষ্টির জল ধরে রেখে বাগানে সেচের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তারফলে জেলায় আম চাষে সাফল্য আসে। স্বাদের দিক থেকে বাঁকুড়ার আম্রপালির তুলনা নেই। দিল্লির আম মেলা সহ বিভিন্ন উৎসবে ওই আম পুরস্কার পেয়েছে। বাঁকুড়ার পাশাপাশি ভিনজেলা ও অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদেরও আম্রপালি রসনাতৃপ্তি করছে।