সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠে বছরের পর বছর ধরে চলা বেআইনি জমি দখল ও মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। জমি মাপজোক করে বেদখল হওয়া সরকারি ও দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা হবে। প্রয়োজনে বুলডোজার চালানো হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা।
পূর্বতন সরকারের আমলে পর্যটক বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে জমি হাঙর ও দালালরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। মন্দির চত্বর, জীবিতকুণ্ড পাড়, দ্বারকা নদের পাড় এবং শ্মশান এলাকা দখল করে বেআইনি হোটেল, লজ ও দোকানপাট গড়ে উঠেছে। ‘পূর্বসাগর’ পুকুর সহ একাধিক জলাশয় বুজিয়ে ফেলা হয়েছে, যা স্থানীয় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। স্থানীয় মানুষজন বারবার সম্মিলিত অভিযোগ জানালেও ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর কেবল নোটিস দিয়েই দায় সেরেছে। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে মাফিয়ারা দাপটের সঙ্গে জমি দখল করেছে। সেখানে গড়ে উঠেছে দোকান, লজ ও হোটেল। স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগের সঙ্গে জড়িত জীবিতকুণ্ডের পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে একের পর এক বহুতল হোটেল, রেস্তরাঁ। সেইসঙ্গে বাণ্যিজিক দোকান বা লজ, হোটেল নির্মাণের উদ্দেশে সংঘবদ্ধ চক্র একের পর এক ভরাট করে জমির চরিত্র পরিবর্তন করে বিক্রি করে দিচ্ছে। কোথাও আবার পাট্টা পাওয়া জমি ‘বোঝাপড়ার’ মাধ্যমে দখল করে গড়ে উঠেছে বহুতল ও দোকান।
ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের পাশাপাশি টিআরডিএর ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের। জমির দালালি করে ফুলেফেঁপে উঠেছে মাফিয়ারা। অভিযোগ, ব্যবসা করে একের পর এক লজের মালিক হয়ে উঠেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তারাপীঠ মন্দিরের সেবাইত তথা বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রশাসনের একাংশের মদতে তারাপীঠে সর্বত্র দখলরাজ চলেছে। তিনি বলেন, বাজেটে কেবল বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট নয়, বরং কালীঘাট, তারকেশ্বর এবং বীরভূমের শক্তিপীঠগুলির মতো ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি পুনরুদ্ধারে ‘হেরিটেজ কমিশন’ পুনর্গঠনের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। এর অন্যতম মূল লক্ষ্য দেবীর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার। নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর বিধায়ক ধ্রুব সাহার মাধ্যমে এবিষয়ে রাজ্যকে জানানো হয়েছিল। বিধায়ক ধ্রুববাবু বলেন, তারাপীঠকে নিয়ে শক্তিপীঠ সার্কিট ঘোষণা হওয়ায় রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দেবী তারার সমস্ত সম্পত্তি মাপজোক করে দখলমুক্ত করব। এজন্য প্রয়োজনে যোগী আদিত্যনাথের মডেল অনুসরণ করে বুলডোজার চালানো হবে। যে কোনো মূল্যে দেবী মায়ের সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে।