Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আরামবাগ মেডিকেল চত্বরে বুলডোজার শঙ্কা

আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দোকান উচ্ছেদের নোটিসে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। পুনর্বাসনের দাবি উঠেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

আরামবাগ মেডিকেল চত্বরে বুলডোজার শঙ্কা
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঁচিলের গায়ে বেশকিছু দোকান অবৈধভাবে তৈরি হয়েছিল। হাসপাতালে ঢোকার দ্বিতীয় গেট তৈরি করতে দখলদারদের সরে যেতে নোটিস দেয় পূর্তদপ্তর। তারজন্য সাত দিন সময় দেওয়া হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেই জবরদখল উচ্ছেদ সরানোর জন্য বুলডোজার চালানো হচ্ছে। সেই আশঙ্কা থেকেই সময় দোকান খুলে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দোকান তুলে দেওয়ায় রুজি-রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার পুনর্বাসন দিলে ভালো হয়। না হলে সংসার চালাতে বিপাকে পড়তে হবে। 

Advertisement

মেডিকেলের সামনে চায়ের দোকান রয়েছে স্বপন সরকারের। তিনি বলেন, প্রায় ৫০বছর ধরে আমার দোকান রয়েছে। এই দোকান থেকেই সংসার চালাচ্ছিলাম। কিন্তু, এখন নোটিস পেয়ে অস্থায়ী দোকানের সব সামগ্রী সরিয়ে নিতে হয়েছে। বাড়িতে ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করছে। তার বিপুল খরচ। কীভাবে সংসার চলবে জানি না। ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহের জন্য আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে ভাল হত। 
বেকারির দোকানদার শেখ ফারুক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন হয়ে গেল এখানে  ব্যবসা করছি। গত বছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য নোটিস পাই। তখন দোকানের নির্দিষ্ট অংশ ভেঙে নিতে হয়েছিল। ভেবেছিলাম ছোট পরিসরেই দোকান চালাতে পারব। কিন্তু, দিন সাতেক আগে ফের সরে যাওয়ার নোটিস পাই। সামনে পাইকারি দোকান থাকলে আর খুচরো ব্যবসা করা সম্ভব নয়। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হলে সুবিধা হত। 
আরামবাগ মেডিকেলের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায় বলেন, দ্বিতীয় গেটের জন্য প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা অনুমোদন হয়ে রয়েছে। মেডিকেল কলেজ তৈরির সময় জমি না মেলায় তা করা যায়নি। দখলদাররা সরলে পূর্তদপ্তর গেট তৈরির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। 
উল্লেখ্য, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আরামবাগ মেডিকেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপি বিধায়করা। আপাতত মেডিকেলে ঢোকার একটি মাত্র গেট। নিত্যদিন ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকায় দ্বিতীয় একটি গেট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেইজন্য হাসপাতালের পাঁচিলের গায়ে থাকা অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে নোটিস দেয় পূর্তদপ্তর। পূর্তদপ্তরের আরামবাগ মহকুমার এক বাস্তুকার বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দখলদাররা সরে গেলে জায়গাটি পরিষ্কার করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। 
আরামবাগ থেকে তিরোল যাওয়ার রাস্তায় প্রায় ১০-১২টি দোকান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা দিয়ে আরামবাগ স্টেশনেও যেতে হয়। ফলে দিনের বিভিন্ন সময় যানজট লেগে থাকে। বাসিন্দাদের অনেকের দাবি, হাসপাতাল স্টেশনের যাওয়ার রাস্তায় যানজট কাম্য নয়। কেউ কেউ আবার ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের পক্ষেও সওয়াল করেছেন। 
 দোকান সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ