নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: খারিজি মাদ্রাসার যাচাইকরণ নিয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও তার সূত্র ধরেই বাম আমলকে কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দলের চাপ এবং ‘ব্লক ভোটের’ স্বার্থে নিজের অবস্থান থেকে সরে না গেলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এত খারিজি মাদ্রাসা গজিয়ে উঠত না। রবিবার হাওড়ায় এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি রাজ্যের ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি ১০০টিকে শোকজ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শমীক। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুরানো অবস্থানের সমালোচনা করেছেন তিনি। শমীকের বক্তব্য, সেদিনের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারলে আজ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে মাদ্রাসার এই বাড়বৃদ্ধি ঘটত না। তাঁর অভিযোগ, ‘শিক্ষার পরিবর্তে ছাত্রদের র্যাডিকালাইজড করে দেওয়ার চেষ্টা, ভারত-বিরোধী প্রচার এবং সংখ্যা দিয়ে ভারত দখলের তত্ত্ব চলছে।’
ভুয়ো চিকিৎসক ইস্যুতেও পূর্বতন রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, রাজ্যে মানুষের বদলে কুকুরের ডায়ালিসিস হয়, তাও সেরা হাসপাতালে! সেখানে ভুয়ো ডাক্তার পাওয়াটাই স্বাভাবিক। অতীতেও এমন হয়েছে। ডিগ্রিহীন ডাক্তারদের নিয়েও ডায়মন্ডহারবারে ‘সেবা’ চলছিল। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল সেখানে। এই অরাজকতা তৃণমূল তৈরি করেছে।
শমীকের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘তৃণমূল গৃহীত, পরীক্ষিত এবং পরিত্যক্ত। এই মুহূর্তে নির্মূল!’ তাঁর দাবি, তৃণমূলের এক ডজনের বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত হাজার কোটি টাকার দখলদারি নিয়েই দলে লড়াই চলছে। দলীয় প্রতীক বাঁচবে কি না, তা তৃণমূলের ব্যাপার।



