Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

বাতিল হচ্ছে পুরনো আয়কর কাঠামো? আসন্ন বাজেটেই ঘোষণা নির্মলার, ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড়

বাতিল হচ্ছে পুরনো আয়কর কাঠামো? আসন্ন বাজেটেই ঘোষণা নির্মলার, ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড়
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: পুরনো আয়কর কাঠামোকে এবার কি চিরতরে বন্ধই করে দেওয়ার পথে হাঁটতে চলেছে নরেন্দ্র মোদির অর্থমন্ত্রক? আসন্ন বাজেটে এই লক্ষ্যে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রের খবর, ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরকে পুরনো আয়কর কাঠামোর শেষ বর্ষচক্র হিসেবে ধরা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী বছরের পর আর পুরনো কর কাঠামো থাকবে না। এই কাঠামো কীভাবে বাতিল করে দেওয়া হবে, তার রূপরেখাও আসন্ন বাজেটে জানিয়ে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত যা খবর, তাতে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই পুরনো আয়কর ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কেন? ২০২৪ সালের অ্যাসেসমেন্ট বর্ষে ২৮ শতাংশ মানুষ পুরনো কর ব্যবস্থায় রিটার্ন দিয়েছেন। তাই এখনই পত্রপাঠ ‘ওল্ড রেজিম’ বাতিল করে দিতে পারছে না নির্মলা সীতারামনের মন্ত্রক। কিন্তু কেন্দ্রকে উৎসাহ জোগাচ্ছে দাঁড়িপাল্লার অন্যদিক। মানে, নতুন কাঠামোয় চলে আসা ৭২ শতাংশ করদাতা। তাঁরা কিন্তু কোনও করছাড় ছাড়াই পুরনো ব্যবস্থা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। অর্থাৎ তাঁরা দেখেছেন, ছাড় দেওয়ার পরও পুরনো কর কাঠামোয় লাভ হচ্ছে না। বরং নয়া ব্যবস্থায় ছাড় বাদ রেখেই কম আয়কর দিতে হচ্ছে। কেন্দ্র আশা করছে, এই সংখ্যাটা চলতি অর্থবর্ষে আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে এক বছর পর ওই কর ব্যবস্থাটাই গুরুত্বহীন হয়ে যাবে। তখন সরকারিভাবে বাতিল করতে অসুবিধা কোথায়?
Advertisement
আগামী ৩১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বাজেট অধিবেশন। চলবে দু’দফায়। প্রথমটি ৩১ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি। পরে ১০ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল। ১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ বাজেট। পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। আসন্ন এই বাজেটে মোদি সরকারের লক্ষ্য কী? গ্রাম ও মধ্যবিত্ত। গ্রামীণ ভারতকে বেশি আর্থিক সহায়তা দিতে হবে বলে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা এসেছে আরএসএসের পক্ষ থেকে। কৃষকবন্ধু ঘোষণা এবং ১০০ দিনের কাজের জন্য বেশি বরাদ্দ সেই তালিকায় থাকছে। আর অবশেষে কম ট্যাক্স দেওয়া শ্রেণির পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে যারা বেশি আয়কর দেয়, সেই অংশের জন্য সুসংবাদ দেওয়া হবে বলেও শোনা যাচ্ছে। সেটা কী? ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের জন্য করছাড়ের সুবিধা। এছাড়া বেসিক এক্সেমশনকে ৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করা নিয়েও চর্চা প্রবল। অর্থাৎ করকাঠামোর নিম্নস্তরে থাকা এবং করকাঠামোর মাঝারি স্তরে থাকা করদাতা—উভয়কেই তুষ্ট করা হতে পারে। এতদিন প্রধানত ১০ লক্ষ টাকার কম বার্ষিক আয়ের করদাতাদের জন্য নানারকম পারমুটেশন কম্বিনেশনের হিসেব দেখিয়ে করছাড়ের ঢালাও প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু পণ্যক্রয়ে সবথেকে বেশি যারা ব্যয় করে, ঩সেই ১৫ লক্ষ টাকা এবং তার বেশি বার্ষিক আয়ের শ্রেণি বঞ্চিত থেকেছে। যদিও এবারও আয়কর ছাড়ের সুবিধায় ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের করদাতাদের আসার সম্ভাবনা কম। ১৫ লক্ষ টাকাকেই সর্বোচ্চ সীমা রাখা হবে।   
পুরনো বদলে নতুনকে নিয়ে আসা প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় হবি। মোদি চান ‘নতুন ভারত’ রেখে যেতে। সেখানে সর্বত্র তাঁর ছাপ। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাই পুরনোকে বদলে দেওয়া। অবিরত। বদলেছে যোজনা কমিশনের নাম, দিল্লির কেন্দ্রস্থল সেন্ট্রাল ভিস্তা। বাতিল হয়েছে পার্লামেন্ট হাউস। বদলে গিয়েছে নোট, রাস্তা, লাইব্রেরি, শহর, স্টেশন। আর আয়কর ব্যবস্থা। কয়েক বছর ধরে যে কোনও সুবিধা শুধু নতুন আয়কর ব্যবস্থার জন্য। বিদায়ের ইঙ্গিত মিলেছে। এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। 
সম্পর্কিত সংবাদ