নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সাইবার অপরাধীদের ফাঁদে পড়ে কার্যত নিজের বাড়িতেই ১০দিন ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হয়ে থাকলেন জামুড়িয়ার নন্ডী গ্রামের যুবক মৃন্ময় ঘোষ। তিনি মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সাইবার অপরাধীরা পুলিসের পোশাক পরে দু’বেলা ভিডিও কল করে মৃন্ময়কে ‘জেরা’ করত। মুম্বই সাইবার ক্রাইম থানা আধিকারিক পরিচয়ে ফোন করে প্রতারকরা বলে, তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে নাকি একাধিক সিমকার্ড তোলা হয়েছে। আর সেই সিমকার্ডগুলি ব্যবহার করে কয়েক লক্ষ টাকার সাইবার প্রতারণা করা হয়েছে। এদিকে মৃন্ময়ের আধার কার্ডটি মুম্বইয়ে হারিয়ে যায়। ফলে বিষয়টি তিনি সহজেই বিশ্বাস করে নেন। যদিও পুলিসের দাবি, প্রথম দিকে ভয় দেখিয়েই টাকা আদায় করা হয়েছিল। তবে শেষদিকে প্রতারকদের সাহায্য করার পুরস্কার হিসাবে তাঁকে প্রচুর টাকা দেওয়ার লোভও দেখানো হয়। তাতে মৃন্ময় আরও বেশি টাকা দিয়ে দেন।
Advertisement
ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, জামুড়িয়া থানার পুলিস খোয়া যাওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা ফেরাতে সক্ষম হয়েছে। অভিযোগকারী দ্রুত থানায় এসে অভিযোগ করেছিলেন বলেই তা সম্ভব হয়েছে। মৃন্ময়বাবুর দাবি, দুর্গাপুজোর সময়ে তিনি নিজের বাড়ি এসেছিলেন। তার আগেই মুম্বইয়ে তাঁর আধার কার্ডটি হারিয়ে যায়। অন্য একটি কাজে তিনি মুম্বই সাইবার থানার একটি অফিসেও গিয়েছিলেন। পুজোর সময়ে হঠাৎই তাঁর মোবাইলে মুম্বই সাইবার থানার অফিসার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে। সে বলে, তাঁর নামে থাকা মোবাইল সিম ব্যবহার করে প্রচুর টাকার সাইবার প্রতারণার করা হয়েছে। সেই টাকা আদায়ের জন্য তাঁর ও পরিবারের সকলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হবে। এরপরই নিদান দেওয়া হয়, সকাল বিকেল ভিডিও কল করে নিজের অবস্থান জানাতে হবে। ভিডিও কলের মাধ্যমে মামলা নিয়ে তাঁকে জেরাও করা হবে। এই সময় বাইরে যাওয়া যাবে না। কয়েকদিন ধরে এরকম চলতে থাকে। তারপর তারাই সমস্যা সমাধানের রাস্তা বাতলে দেয়। বলা হয়, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পাঠালেই এই ঝক্কি থেকে মুক্তি মিলবে।
অভিযোগকারীর দাবি, প্রথমে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পুজোর পর ব্যাঙ্ক খুললে সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে পাঠানো হয়। প্রতারকরা ফের ৫০ হাজার টাকা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে নেয়। তারপরই তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপরেই মৃন্ময়বাবু জামুড়িয়া থানায় পুরো বিষয়টি জানান। পুলিস তদন্ত শুরু করে। প্রতারকদের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মৃন্ময়বাবু সমস্ত টাকা পাঠাচ্ছিলেন। পুলিস সেই অ্যাকাউন্ট থেকে ৭ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৪৪ টাকা উদ্ধার করতে সফল হয়। শনিবার জামুড়িয়া থানার পুলিস সেই টাকাই মৃন্ময়বাবুকে ফেরত দেয়।
অভিযোগকারীর দাবি, প্রথমে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পুজোর পর ব্যাঙ্ক খুললে সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে পাঠানো হয়। প্রতারকরা ফের ৫০ হাজার টাকা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে নেয়। তারপরই তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপরেই মৃন্ময়বাবু জামুড়িয়া থানায় পুরো বিষয়টি জানান। পুলিস তদন্ত শুরু করে। প্রতারকদের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মৃন্ময়বাবু সমস্ত টাকা পাঠাচ্ছিলেন। পুলিস সেই অ্যাকাউন্ট থেকে ৭ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৪৪ টাকা উদ্ধার করতে সফল হয়। শনিবার জামুড়িয়া থানার পুলিস সেই টাকাই মৃন্ময়বাবুকে ফেরত দেয়।



