Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

বাড়িতেই আক্রান্ত সইফ, পরপর কোপ লুটেরার, শিরদাঁড়ায় বিঁধে ছুরি

বাড়িতেই আক্রান্ত সইফ, পরপর কোপ লুটেরার, শিরদাঁড়ায় বিঁধে ছুরি
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
মুম্বই: রাত সওয়া দুটো। মায়ানগরী মুম্বই তখনও ঘুমোয়নি। আধঘণ্টা আগেই পার্টি সেরে ফিরেছেন নায়িকা করিনা কাপুর। বান্দ্রা ওয়েস্টের অভিজাত আবাসন ‘সৎগুরু শরণে’র ১০ তলায়, ‘পতৌদি হাউসে’। গোটা বাড়ি নিস্তব্ধ। আচমকা রাতের অন্ধকার চিরে চিৎকার করে উঠল এক মহিলা কণ্ঠ। পরিবারের বিপদ আঁচ করে তড়িঘড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন সইফ আলি খান। তারপরই শুরু ধস্তাধস্তি। আততায়ীর হাতে ঝিলিক দিয়ে উঠল ছুরির ধারালো ফলা। নির্বিচারে কোপ বসাচ্ছে সে। প্রথমেই পিছনে থাকা সইফের ঘাড় লক্ষ্য করে। বাঁধন শিথিল হতে এলোপাথাড়ি আরও পাঁচবার। সঙ্গে শাসানি... ‘এক কোটি টাকা দে!’ গলগল করে রক্ত বেরচ্ছে অভিনেতার ঘাড়-হাত থেকে। শেষবার কোপের সময় ছুরিটাও গেঁথে গিয়েছে শিরদাঁড়ায়। গৃহকর্তাকে পড়ে যেতে দেখেই তড়িঘড়ি পগার পার আততায়ী!
Advertisement
না, এটা রুদ্ধশ্বাস কোনও সিনেমা নয়! বুধবার মধ্যরাতে নিজের বাড়িতে ডাকাতি রুখতে গিয়ে এভাবেই আক্রান্ত হলেন বলিউড তারকা সইফ আলি খান। বাবা সিদ্দিকি খুন, সলমন খানের বাড়িতে হামলা, হুমকি— মুম্বইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সম্প্রতি একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তারপর এই ঘটনা। আর তা নিয়েই বৃহস্পতিবার দিনভর তোলপাড় দেশ। লীলাবতী হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন সইফ। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল।
চিকিৎসক ডাঃ নীরজ উত্তমানি, ডাঃ নীতিন ডাঙ্গে ও ডাঃ লীনা জৈনের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন সইফ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মোট ছ’টি ক্ষত রয়েছে তাঁর দেহে। এর মধ্যে শিরদাঁড়ায় আঘাত গুরুতর। ছুরির দু’ইঞ্চি অংশ মেরুদণ্ডে বিঁধে ছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে আসছিল সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছুরি বের করা হয়। এছাড়াও চোট লেগেছিল ঘাড়, হাতে। সেই কারণে কসমেটিক সার্জারি করা হয়েছে অভিনেতার। এদিন সইফকে দেখতে হাসপাতালে যান শাহরুখ খান, করিশ্মা কাপুর, রণবীর কাপুর-আলিয়া ভাট সহ তারকারা। সন্ধ্যায় যান মা শর্মিলা ঠাকুরও।
পুলিস জানিয়েছে, চুরির উদ্দেশ্যেই এসেছিল আততায়ী। পাশের কম্পাউন্ডে ঢোকে সে। এরপর পিছনের সিঁড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ে সইফের অ্যাপার্টমেন্টে। তবে কোনও তালা ভাঙা হয়নি। সটান ১০ তলায় উঠে প্রথমেই সে ঢোকে সইফের ছোট ছেলে জাহাঙ্গিরের ঘরে। অচেনা ব্যক্তিকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ন্যানি এলিয়াম্মা ফিলিপস ওরফে লিমা। আটকাতে যান আততায়ীকে। তাঁকেই প্রথমে আঘাত করে ওই লুটেরা। চিৎকার শুনে উপরের তলা থেকে ছুটে আসেন সইফ। তাঁকে কোপানোর পর যে রাস্তা দিয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছিল, সেই রাস্তা দিয়েই পালিয়ে যায় আততায়ী। ছ’তলার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে তার ছবি ধরা পড়েছে।
ঘটনার পর থেকেই পুলিসে পুলিসে ছয়লাপ ‘সৎগুরু শরণ’ সংলগ্ন এলাকায়। গঠিত হয়েছে ১৫ জনের টিম। আবাসনের বাইরে দেখা গিয়েছে এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট দয়া নায়েককে। ডিসিপি দীক্ষিত গেদাম জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে।’ গোটা ঘটনায় বাড়ির কর্মীদেরই সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ইতিমধ্যে আটক করেছে পুলিস।
সম্পর্কিত সংবাদ