সংবাদদাতা, বনগাঁ: সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতেই প্রসবের ব্যবস্থা করেছিলেন স্বামী। কিন্তু প্রসব করাতে গিয়ে মায়ের অবস্থার অবনতি হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দিলেও মৃত্যু হয় মায়ের। সদ্যোজাত শিশু বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে বাগদা থানার আষাঢ়ু মালিপোতা এলাকায়। মৃতার নাম সুমনা দেবনাথ (৩০)। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামীর ঘাড়ে দায় চাপালেও রবিবার বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।
Advertisement
জানা গিয়েছে, বছর আটেক আগে মালিপোতার বাসিন্দা ননী দেবনাথের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বসিরহাটের বাসিন্দা সুমনার। ননী তেমন কিছু কাজ করেন না। সাধুর বেশে ঘুরে বেড়ান এদিক-ওদিক। তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, ননী মেয়ের দেখভাল করেন না। এরমধ্যে দু’বার সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন সুমনা। তবে দু’বারই গর্ভস্থ অবস্থায় ভ্রুণ নষ্ট হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। এরপর চতুর্থবার সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন তিনি। শুক্রবার প্রসব যন্ত্রণা উঠলে ননী স্ত্রীকে হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতেই প্রসবের ব্যবস্থা করেন। সেই সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রসূতি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। সুমনার আত্মীয়দের অভিযোগ, তাঁর উপর স্বামী মাঝেমধ্যেই অত্যাচার করত।
প্রসূতি মৃত্যু ঠেকাতে ঢেলে সাজানো হয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা। জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানিক প্রসবে। ১০২ ডায়াল করলে নিখরচে মিলছে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। তাও মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে মনে করছে অনেকেই। বাগদার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) ডাঃ শুভ্রজ্যোতি মজুমদার বলেন, প্রসূতি মায়েদের জন্য সবরকম সুবিধা রয়েছে। গ্রামে গ্রামে আশাকর্মীরা রয়েছেন। হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের চিকিৎসা হয়। এত সুবিধা থাকার পরও কেন বাড়িতে প্রসবের চেষ্টা হল, তা বোঝা মুশকিল। ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক।
প্রসূতি মৃত্যু ঠেকাতে ঢেলে সাজানো হয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা। জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানিক প্রসবে। ১০২ ডায়াল করলে নিখরচে মিলছে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। তাও মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে মনে করছে অনেকেই। বাগদার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) ডাঃ শুভ্রজ্যোতি মজুমদার বলেন, প্রসূতি মায়েদের জন্য সবরকম সুবিধা রয়েছে। গ্রামে গ্রামে আশাকর্মীরা রয়েছেন। হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের চিকিৎসা হয়। এত সুবিধা থাকার পরও কেন বাড়িতে প্রসবের চেষ্টা হল, তা বোঝা মুশকিল। ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক।



