Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বসিরহাটে জমিজমা নিয়ে বিবাদ, ফোন করে ডেকে গুলির পর কুপিয়ে খুন তৃণমূল কর্মীকে

বসিরহাটে জমিজমা নিয়ে বিবাদ, ফোন করে ডেকে গুলির পর কুপিয়ে খুন তৃণমূল কর্মীকে
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: ‘বাইরে আসুন দাদা, একটু দরকার আছে’— এক অপরিচিত কণ্ঠে ফোন আসায় ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন তৃণমূল কর্মী। আর সেটাই ‘কাল’ হল তাঁর। বাইরে বেরতেই দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হয়ে গেলেন বসিরহাটের ইটিন্ডা-পানিতোর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাকুয়াদহ এলাকার বাসিন্দা আনন্দ সরকার (৪৮)। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে সোমবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বসিরহাট থানার পুলিস। ধৃতদের নাম ফারুক বিশ্বাস ও জাকির গাজি। তাদের বাড়ি এই এলাকাতেই। খুনের নেপথ্যে কী কারণ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
Advertisement
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পঁয়তাল্লিশের আনন্দ সরকার ঘোজাডাঙা সীমান্তে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েক বছর আগে চোরাচালানের অভিযোগে তিনি ধরা পড়েন। সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছিলেন। বাড়ির পাশেই তাঁর একটি দোকান রয়েছে। পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত ব্যবসাও করতেন তিনি। সোমবার কাজ সেরে রাত ১০টা নাগাদ বাড়িতে ফিরেছিলেন আনন্দবাবু। তখন খাওয়া-দাওয়ার তোড়জোড় চলছিল। সেই সময় হঠাৎ ফোন আসে। অপরিচিত কণ্ঠে একজন জানায়, একটু বাইরে আসতে হবে, জরুরি প্রয়োজন। বাড়ির বাইরে বেরতেই তাঁর মাথায় গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলি করেও ক্ষান্ত হয়নি তারা, এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কোপানো হয়েছে। গুলির শব্দ শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এসে দেখেন, মাঠের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন আনন্দ। খবর দেওয়া হয় বসিরহাট থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিস। তাঁরা গুলিবিদ্ধ ওই ব‍্যক্তিকে উদ্ধার করে বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্য লক্ষ্মী সরকার বলেন, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আনন্দকে কেউ বা কারা ফোন করে ডেকে বাড়ির পাশের মাঠে নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁর মাথায় গুলি করা হয়েছে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন আনন্দ। তদন্তে নেমে ওই রাতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পুলিস। ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে ফারুক বিশ্বাস ও জাকির গাজিকে আটক করা হয়। জেরায় তারা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। পুলিসের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ধৃতরা মূলত সুপারি কিলার। জমি নিয়ে বিবাদের কারণেই তাদের ভাড়া করেছিল অন্য এক ব্যক্তি। প্রাথমিকভাবে জেরায় ধৃতরা সেকথা স্বীকার করে নিয়েছে। এ নিয়ে বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা খুনের কথা স্বীকার করেছে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই সুপারি কিলার দিয়ে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ