নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রায় ১৩দিন নিখোঁজ থাকার পর সোমবার চাষের জমি থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হল। দেহটি মাটিতে অর্ধেক পোঁতা অবস্থায় মিলেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাসন্তী থানার উত্তর চুনাখালি গ্রামে। মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। তিনজনের বিরুদ্ধে সন্দেহ রয়েছে তাদের। পুলিসকে তাদের নাম জানানো হয়। তার ভিত্তিতে স্থানীয় তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্ট এলেই বোঝা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। যদিও পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, ধর্ষণ করেই খুন করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, গত ৭ জানুয়ারি স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে বেরিয়েছিল ওই অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। রাত হয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হলেও, ওই ছাত্রীর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করে পরিবার। সোমবার সকালে ওই ছাত্রীর বাড়ির ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার দূরে মণ্ডল পাড়ায় চাষের জমিতে কাজ করছিলেন এক কৃষক। দুর্গন্ধ পেয়ে তার উৎস খুঁজতে গিয়ে তিনি দেখেন, জমির একটি অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। সেখানে অর্ধেক মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় একটা দেহ রয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বাসন্তী থানার অফিসাররা। মাটি খুঁড়তেই ওই নাবালিকাকে দেহ উদ্ধার হয়। তার শরীরে পচন ধরেছে। দেহ নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন পুলিসকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। শরীরে যেভাবে পচন ধরেছে তাতে আঘাতের চিহ্ন কিছু স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না বলে দাবি পুলিসের। এদিকে, পরিবার সূত্রে খবর, যেদিন নিখোঁজ হয়ে যায় ওই ছাত্রী, সেদিন এলাকার তিন যুবকের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাকে। তাঁরাই কিছু ঘটিয়েছে কি না, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তাই ওই তিনজনকে আপাতত জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস। প্রণয় ঘটিত কারণে কিছু ঘটেছে কি না, সেই দিকটাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।



