সংবাদদাতা, বোলপুর: প্রথা ও নিয়ম ভেঙে মূর্তিপুজো করার অভিযোগ উঠল বিশ্বভারতীর এক হস্টেলে। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিনিকেতনের শান্তিশ্রী বয়েজ হস্টেলে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই বিশ্বভারতী ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনওরকম মূর্তি পুজোর চল নেই। অথচ সেই নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে হস্টেলের ছাত্রদের একাংশ বাগদেবীর আরাধনায় মেতে ওঠেন। হস্টেল ওয়ার্ডেনদের অন্ধকারে রেখে এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমতাবস্থায় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। এ বিষয়ে এক হস্টেল ওয়ার্ডেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ছুটিতে আছি’ বলে দায় এড়িয়েছেন। বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠার বহুকাল আগে থেকেই শান্তিনিকেতনে আশ্রম ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত। শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট ডিডে বলা হয়েছে, নিরাকার এক ব্রহ্মের উপাসনা ব্যতীত কোনও সম্প্রদায় বিশেষের অভীষ্ট দেবতা, পশু-পক্ষী, মানুষের মূর্তি, চিত্র বা কোনও চিহ্নের পুজো কিংবা যজ্ঞ এই শান্তিনিকেতনে হবে না। তাই, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমল থেকেই শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসে মূর্তিপুজোর চল নেই। এই ধরনের কার্যকলাপ শান্তিনিকেতনের ভাবনা ও আদর্শের পরিপন্থী। পরিবর্তে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাসনা গৃহে নিরাকার এক ঈশ্বরবাদের তত্ত্ব অনুসরণ করে প্রার্থনা করা হয়।



