


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘সীমান্ত সুগন্ধ’! মহিলাদের স্বনির্ভতার লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এবার ধূপ তৈরির নয়া প্রকল্প নিয়েছে বিএসএফ। সেই ধূপেরই এমন নামকরণ করা হয়েছে। রীতিমতো বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে স্থানীয় মহিলাদের প্রশিক্ষণ, কাঁচামাল সংগ্রহ, এমনকী ধূপ বাজারজাত করার জন্য সহযোগিতাও করা হচ্ছে। দামও রাখা হয়েছে নাগালের মধ্যে। এক প্যাকেট ‘সীমান্ত সুগন্ধ’ ধূপকাঠি মিলছে মাত্র ২৫ টাকায়। নদীয়া জেলার হুদাপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই নয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে বিএসএফ। হাসি ফুটেছে এলাকার মহিলাদের মুখে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে একাধিক প্রকল্প নিয়ে থাকে বিএসএফ। এর আগে গ্রামবাসীদের নিয়ে সীমান্তে মৌমাছি পালনের প্রকল্পও রূপায়ণ করেছে তারা। সেভাবেই ধূপকাঠি তৈরির এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘বৈভব সমৃদ্ধি সীমা সুগন্ধ আগরবাতি’। ২২ মে নদীয়া জেলার হুদাপাড়া গ্রামে প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনের দিনই প্রায় ৪০০ প্যাকেট ধূপকাঠি বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী এবং বিএসএফ ক্যাম্পের জওয়ানরাই তা কিনেছেন। ২৫ টাকার এক-একটি প্যাকেটে ৪০টি করে ধূপকাঠি থাকছে।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষকে ‘টার্গেট’ করে পাচারকারীরা। সীমান্তের মানুষজনের আর্থিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলে তাঁরা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হবেন না। তাছাড়া, এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বিএসএফ জওয়ানদের একটি নিবিড় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় নানা ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। নদীয়ায় এই প্রকল্প শুরুর আগে বিএসএফের পক্ষ থেকে একটি দল গ্রামে ঘুরে আগ্রহী মহিলাদের খুঁজে বের করে। তারপর ৩২ নম্বর বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কলকাতাভিত্তিক এক বিশেষজ্ঞকে নিযুক্ত করে। তিনি গ্রামের মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত সব স্তরে সহায়তা করছেন। গ্রামের মহিলারা লাভের টাকা থেকেই কাঁচামাল কিনতে পারবেন। ফলে কোনও বিনিয়োগও করতে হচ্ছে না। ধূপের হাত ধরে ঘরে লক্ষ্মী আসায় খুশি মহিলারা। তাঁরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএসএফ-কে।