নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: ফের সীমান্তে তাণ্ডব সশস্ত্র বাংলাদেশি গোরু পাচারকারীদের। তাদের আক্রমণে জখম বিএসএফ জওয়ান। শনিবার ভোরে জলপাইগুড়ি জেলার খালপাড়া সীমান্তের ঘটনা। অভিযোগ, কাঁটাতারের বেড়া কেটে এপারে ঢুকে জওয়ানদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশি পাচারকারীরা। পাল্টা আত্মরক্ষায় জওয়ানরা গুলি চালালে এক বাংলাদেশি পাচারকারীর মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে গোরু উদ্ধারের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে বিএসএফ। এনিয়ে সীমান্ত গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের কুকুরজান পঞ্চায়েতে খালপাড়া সীমান্ত। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা সংশ্লিষ্ট গ্রামে রয়েছে চা বাগান। বিএসএফ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর ৩টে নাগাদ সীমান্তে জড়ো হয় ২০ থেকে ২৫ জন বাংলাদেশি পাচারকারীরা। তাদের হাতে লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা সীমান্তের ৩৮নং বালাসন গেটের তার কেটে এপারে প্রবেশ করে। এসময় কর্তব্যরত জওয়ানরা আত্মসমর্পণ করতে বললেও, তারা কর্ণপাত করেনি। সেসময় সেখানে হাজির হয় এপারের কিছু দুষ্কৃতী। তাদের কাছে গোরু ছিল। তখন দুষ্কৃতীদের ছত্রভঙ্গ করতে হ্যান্ড গ্রেনেড ও মির্চি গ্রেনেড ছোড়ে জওয়ানরা। তাতেও পিছু হটেনি পাচারকারীরা। বরং তারা আক্রমণাত্মক হয়ে জওয়ানদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এক জওয়ানকে কয়েকজন ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ত্রিপুরা সীমান্তের কায়দায় জওয়ানের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। নিরুপায় হয়ে আত্মরক্ষায় পরপর ১০ রাউন্ড গুলি চালায় বিএসএফ। এতেই অধিকাংশ দুষ্কৃতী এদিকে-ওদিকে পালিয়ে যায়। গুলিবদ্ধ হয় এক বাংলাদেশি পাচারকারী। গুরুতর জখম অবস্থায় জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর, তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
সংশ্লিষ্ট গ্রাম জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে হলেও, তা বিএসএফের শিলিগুড়ি সেক্টরের অধীনে। শিলিগুড়ি শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সেই গ্রাম। বিএসএফের উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের এক অফিসার বলেন, বাংলাদেশি পাচারকারীদের হামলায় জখম বিএসএফ জওয়ানের চিকিৎসা হয়েছে। তাঁর হাতে আঘাত লেগেছে। তিনি আপাতত সুস্থ রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি গোরু এবং দা, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। কাঁটাতারের বেড়ার কাটা অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশি পাচারকারীর মৃত্যু নিয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। বিএসএফ ও পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মহম্মদ আল আমিন(২৬)। বাড়ি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের জিন্নাতপাড়া গ্রামে। বিএসএফ জানিয়েছে, ওপারের কিছু সোর্স মারফত মৃতের পরিচয় জানা গিয়েছে। ময়নাতদন্তের পর ফ্ল্যাগ মিটিং করে মৃতদেহ বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে। তবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের ৫৬ ব্যাটালিয়নের তরফে স্বীকার করা হয়েছে, আল আমিন চোরা কারবারের জড়িত ছিল। প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার প্রভৃতি জেলার সীমান্তে একাধিকবার আক্রমণ হানে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। এবার জলপাইগুড়ির খালপাড়ায় সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মদতেই সীমান্তে এমন ঘটনা ঘটছে।