Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্রিটিশদের কোপে পড়েই তারাশঙ্করকে বোলপুরের ছাপাখানা তুলে দিতে হয়েছিল

ব্রিটিশদের কোপে পড়েই তারাশঙ্করকে বোলপুরের ছাপাখানা তুলে দিতে হয়েছিল
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিতাই দাস, সিউড়ি: ব্রিটিশ বিরোধী কবিতা ছাপানোর জেরে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ছাপাখানা বন্ধ করতে হয়েছিল। বীরভূম জেলাও ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। নেতাজির পরামর্শে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে থাকাকালীনই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। যার জেরে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁকে কয়েক মাস বন্দি করে রাখা হয়েছিল সিউড়ির জেলে।
Advertisement
লাভপুরের জমিদার পরিবারে জন্ম হয়েছিল তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বোলপুরে তাঁর একটি ছাপাখানা ছিল। দেশে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠার সময়ে ওই ছাপাখানা ইংরেজদের নজরে পড়েছিল। জানা গিয়েছে, একসময় বিপ্লবীরা সাহিত্যিকের ওই ছাপাখানা থেকে ব্রিটিশ বিরোধী কবিতা ছাপিয়ে ছিলেন। তাতে প্রকাশক হিসেবে ওই ছাপাখানার নাম উল্লেখ ছিল। যা ব্রিটিশ সরকারের চোখ এড়ায়নি। এরপরই পুলিস ডেকে পাঠায় তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়কে। মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল তাঁকে। তবে তিনি তা এড়িয়েই চলছিলেন। এরই মাঝে বোলপুর রেল স্টেশনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তাঁর পরামর্শেই তারাশঙ্করবাবু বীরভূম ছেড়ে কলকাতায় পাড়ি দেন। অন্যদিকে নেতাজির পরামর্শেই তাঁর ছাপাখানাও স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেসময় সাহিত্যিকের মেজ ভাই দুর্গাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় গোরুর গাড়িতে করে ওই ছাপাখানার সরঞ্জাম বোলপুর থেকে লাভপুরে নিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও বর্তমানে সেই ছাপাখানার কোনও অস্তিত্ব নেই।
এদিকে বীরভূম ছাড়তেই সাহিত্যিকের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। কলকাতায় থাকাকালীন গান্ধীজির নেতৃত্বে চলা অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই সুবাদেই তিনি ফের একবার ব্রিটিশ পুলিসের নজরে চলে আসেন। পুলিসের খাতায় তাঁর নাম উঠতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই সিউড়িতে থাকা ব্রিটিশ সরকারের জেলে তাঁকে বন্দি করা হয়েছিল। সেই জেলখানাই বর্তমানে সিউড়ি জেলা সংশোধনাগার হিসেবে পরিচিত।  বন্দিদশা কাটার পর তিনি লেখালেখিতে আরও বেশি মন দিয়েছিলেন। তবে, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বন্ধ হয়নি। যা ব্রিটিশ সরকার খুব একটা ভালো চোখে দেখত না।   
দেশ থেকে ব্রিটিশদের উত্খাত করতে সাঁওতালরা আন্দোলনের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর একে একে সিপাহী বিদ্রোহ, কৃষক বিদ্রোহ সহ একাধিক আন্দোলন। সবশেষে স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দেশ ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হয়। সেইদিন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় লাভপুরের অতুলশিব ক্লাবের সামনে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। 
বীরভূমের বিশিষ্ট গবেষক ডঃ আদিত্য মুখোপাধ্যায় বলেন, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের পাঁশে দাঁড়াতেন। ফলে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছেন এমন প্রচার গড়ে উঠেছিল। অথচ, তিনি কংগ্রেস দলের হয়ে মানুষের সেবাই করেছেন মাত্র। তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছিল। এমনকী বোলপুরে থাকা তাঁর ছাপাখানাও বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ