নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ১৯৫০ সালে খেলাধুলোকে হাতিয়ার করে বারাসতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘অগ্রদূত ক্লাব’। এই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৫১ জন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়েছে ক্লাব। বর্তমানে ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ১৭৮ জন। খেলাধুলোর পাশাপাশি সমাজসেবাতেও ক্লাবের যথেষ্ট নাম রয়েছে। তাই, ক্লাবের প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বর্ষ উপলক্ষ্যে রবিবার একটি ডাকটিকিটের উদ্বোধন হল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রথম ক্লাবের নামে ডাকটিকিট প্রকাশ করল ভারতীয় ডাক বিভাগ। এছাড়াও এদিনের এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ক্লাবের সদস্য সহ স্থানীয়রা। ১৯৫০ সালের ২৩ জুলাই বারাসত শহরের শেঠপুকুরে একটি বটগাছের নীচে তৎকালীন কয়েকজন মিলে বৈঠক করে ‘অগ্রদূত ক্লাব’ তৈরি করেছিলেন। ক্লাব তৈরির মূল কাণ্ডারী ছিলেন প্রয়াত বিকাশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। চলতি বছরেই জুলাই মাস থেকেই ক্লাবের ৭৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। সারা বাংলা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্কুলভিত্তিক কুইজ, আঁকা প্রতিযোগিতা হয়েছে। এলাকার বিশেষভাবে সক্ষমদের ট্রাই সাইকেল প্রদান থেকে স্বাস্থ্য শিবিরও হয়েছে। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম থেকেই মানুষের পাশে থাকার ব্রত নিয়েই পথ চলা এই ক্লাবের। করোনা মহামারীর সময়ে বিনামূল্যে রোগীদের পৌঁছে দেওয়া হয়েছে অক্সিজেন, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। শুধু তাই নয়, ক্লাবের পক্ষ থেকে ১১টি পরিবারকে আর্থিকভাবেও সাহায্য করা হয় নিয়মিত।
Advertisement
ক্লাবের সম্পাদক কনক মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা সর্বদাই ক্লাবের পক্ষ থেকে মানুষের পাশে থাকি। বিপদে-আপদে ক্লাব সদস্যরা মানুষের কাছে পৌঁছে যান। আগে ক্লাবে শুধু পুরুষ সদস্যরাই ছিলেন, বর্তমানে আমরা নতুন করে মহিলা সদস্য নিচ্ছি। সভাপতি শ্যামসুন্দর চট্টোপাধ্যায় বলেন, শিক্ষার দিকটিও আমরা প্রথম থেকে গুরুত্ব দিই। তাই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই লাইব্রেরি রয়েছে। এছাড়া গান, নাচ, আবৃত্তি সহ শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নিখরচায়। ক্লাবের আরেক সদস্য মানস চট্টোপাধ্যায় বলেন, খেলাধুলোতে আমরা যথেষ্ট এগিয়ে। ক্রিকেট, ফুটবলের পাশাপাশি ভলিবলেও ক্লাবের যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। মহকুমা, জেলার পাশাপাশি রাজ্যের ফুটবল টুর্নামেন্টে ১৯৯১ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ক্লাব। অন্যদিকে ডাক বিভাগের কর্মী আকাশ মণ্ডল ও মহঃ আলি বলেন, ক্লাবের মহতী উদ্যোগের জন্যই জেলায় এই প্রথম ক্লাবের নামে টিকিট করা হল।



