নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শিশুমন। ভালোবাসা আর আদর বোঝে। জাতপাত-নিষেধের বেড়াজাল তাদের বোধগম্য হয় না। এছাড়াও বহু মানুষ আছেন যাঁরা জাতপাতের নিষেধের শেকল ছিঁড়েই এগিয়ে চলেন। এমনই একজন মানুষ হলেন রুপসিনা পারভিন। দরিদ্র হিন্দু প্রতিবেশীর দুই সন্তানকে আশ্রয় দিয়েছেন তিনি। ‘মুসলমান পরিবারে হিন্দু শিশু বড় হবে!’ এ কথা বলে তখন কয়েকজন চোখ পাকিয়ে ছিলেন। রুপসিনা পাত্তা দেননি। ফলে অর্থাভাবে দুই শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়নি। মানুষের মতো মানুষ হতে পারছে তারা।
Advertisement
রুপসিনার বাপের বাড়ি বসিরহাটের চারঘাটে। যখন তিনি কলেজ পড়ুয়া তখন তাঁদের বাড়ির পাশে থাকতেন এক দরিদ্র সাঁতরা দম্পতি। মাছ ধরে সংসার চলত তাঁদের। একেবারেই দিন আনা দিন খাওয়া একটি বাগদি পরিবার। সে দম্পতির এক ছেলে। নাম অয়ন। তখন বয়স এক বছর। সন্তানকে ভালো করে খাওয়াতে পর্যন্ত পারতেন না সাঁতরা দম্পতি। তখন নিজেদের বাড়ি এনে তাকে খাওয়াদাওয়া করাতেন রুপসিনা। বেশিরভাগ সময় তাঁর কাছেই থাকত, খেলত অয়ন। এরপর সাঁতরাদের পরিবারে জন্ম নেয় একটি কন্যা। তার নাম অন্তরা। একদিন দু’টি বাচ্চার দায়িত্বই পুরোপুরি নিয়ে নেন অবিবাহিত রুপসিনা। পরিবারের অকুণ্ঠ সম্মতি ছিল মেয়ের পদক্ষেপে। এরই মধ্যে এম কম পাস করে ফেলেন রুপসিনা। পুলিসের চাকরি পান। অন্যদিকে তাঁর অনাবিল স্নেহে বড় হতে থাকে অয়ন-অন্তরা।
কিছুদিন পর জিআরপিতে যোগ রুপসিনার। চাকরি সূত্রে ভিন জেলায় পোস্টিং। কিন্তু দুই দত্তক সন্তানকে বড় করে তোলার দায়িত্বে অবহেলা করেননি। ২০১৪ সালে বিয়েও করেন। স্বামী রহিম মণ্ডল এলআইসিতে চাকরি করেন। তিনিও স্ত্রীয়ের সন্তানদের আপন করে নেন। রুপসিনার প্রথম পোস্টিং হাওড়া জিআরপি থানায় সাব-ইন্সপেক্টর পদে। এরপর ওসি হয়ে বদলি বনগাঁয়। পুলিসের অনেকের বক্তব্য, সম্ভবত তিনি একমাত্র মহিলা যিনি প্রথম জিআরপি থানার ওসি হন। বর্তমানে বারাসত জিআরপি থানায় ওসি পদে কর্মরত। বারাসতেই বাসস্থান। এরই মধ্যে তাঁর কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। দেখতে দেখতে তার বয়সও হয়ে গেল ন’বছর। বারাসতে ফ্ল্যাটে থাকেন রুপসিনা। সঙ্গে থাকেন স্বামী, কন্যা, অন্তরা ও অয়ন। তিনজনেই তাঁকে মা বলে ডাকে। রুপসিনা এখন তিন সন্তানের জননী।
সদ্যোজাত সেই অন্তরা এখন বড় হয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। অয়ন বিএ প্রথম বর্ষে পড়ে। সে ভালো ছবিও আঁকে। তারা সকলে মিলে ছুটির দিনে রেস্তরাঁয় যায়। পুজোয় বা ইদে নতুন জামাকাপড় পরে। তিন সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে যান রুপসিনা ও তাঁর স্বামী রহিম। রুপসিনা বলেন, ‘ওদের পরিবারের দারিদ্র আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমার মনে হয়েছিল দম্পতির পক্ষে বাচ্চাদের খাইয়ে, পড়িয়ে মানুষ করা অসম্ভব। তাই আমি ওদের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। অবিবাহিত হয়েও লোকে কি বলবে তার তোয়াক্কা করিনি। আমার পরিবার ও পরে স্বামী খুব সহযোগিতা করেছে। ওরা জীবনে অনেকদূর যাবে। তবেই আমার স্বপ্নপূরণ হবে।’ অন্তরা আর অয়ন বলে, ‘নিজেদের বাড়ি যাই মাঝেমধ্যে। ফোনে নিয়মিত খোঁজ নি মা-বাবা কেমন আছে জানতে।’
কিছুদিন পর জিআরপিতে যোগ রুপসিনার। চাকরি সূত্রে ভিন জেলায় পোস্টিং। কিন্তু দুই দত্তক সন্তানকে বড় করে তোলার দায়িত্বে অবহেলা করেননি। ২০১৪ সালে বিয়েও করেন। স্বামী রহিম মণ্ডল এলআইসিতে চাকরি করেন। তিনিও স্ত্রীয়ের সন্তানদের আপন করে নেন। রুপসিনার প্রথম পোস্টিং হাওড়া জিআরপি থানায় সাব-ইন্সপেক্টর পদে। এরপর ওসি হয়ে বদলি বনগাঁয়। পুলিসের অনেকের বক্তব্য, সম্ভবত তিনি একমাত্র মহিলা যিনি প্রথম জিআরপি থানার ওসি হন। বর্তমানে বারাসত জিআরপি থানায় ওসি পদে কর্মরত। বারাসতেই বাসস্থান। এরই মধ্যে তাঁর কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। দেখতে দেখতে তার বয়সও হয়ে গেল ন’বছর। বারাসতে ফ্ল্যাটে থাকেন রুপসিনা। সঙ্গে থাকেন স্বামী, কন্যা, অন্তরা ও অয়ন। তিনজনেই তাঁকে মা বলে ডাকে। রুপসিনা এখন তিন সন্তানের জননী।
সদ্যোজাত সেই অন্তরা এখন বড় হয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। অয়ন বিএ প্রথম বর্ষে পড়ে। সে ভালো ছবিও আঁকে। তারা সকলে মিলে ছুটির দিনে রেস্তরাঁয় যায়। পুজোয় বা ইদে নতুন জামাকাপড় পরে। তিন সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে যান রুপসিনা ও তাঁর স্বামী রহিম। রুপসিনা বলেন, ‘ওদের পরিবারের দারিদ্র আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমার মনে হয়েছিল দম্পতির পক্ষে বাচ্চাদের খাইয়ে, পড়িয়ে মানুষ করা অসম্ভব। তাই আমি ওদের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। অবিবাহিত হয়েও লোকে কি বলবে তার তোয়াক্কা করিনি। আমার পরিবার ও পরে স্বামী খুব সহযোগিতা করেছে। ওরা জীবনে অনেকদূর যাবে। তবেই আমার স্বপ্নপূরণ হবে।’ অন্তরা আর অয়ন বলে, ‘নিজেদের বাড়ি যাই মাঝেমধ্যে। ফোনে নিয়মিত খোঁজ নি মা-বাবা কেমন আছে জানতে।’



