নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুরের বেনাচিতি নেতাজি বিদ্যালয়ে সময়মতো শুরু হয়েছিল পরীক্ষা। উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র নিয়ে পড়ুয়ারা মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া শুরু করেছে। তখন আচমকা এক ছাত্রীর মুখে আলো পড়তে দেখেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাকে নজরে রাখা শুরু করেন। ফের একই ঘটনা ঘটতেই তিনি নিশ্চিত হন ছাত্রীর কাছে মোবাইল রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষিকাদের ডেকে তল্লাশি করতেই বোরখার মধ্যে লুকিয়ে রাখা মোবাইল উদ্ধার হয়। দ্রুত খবর দেওয়া হয় বোর্ডে। ওই ছাত্রীর পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। মাধ্যমিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে বজ্র আঁটুনি টপকে মোবাইল নিয়ে কীভাবে পরীক্ষার হলে ওই ছাত্রী প্রবেশ করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, ছাত্রীর শুধু এদিনের পরীক্ষা নয়, এবছরের জন্য মাধ্যমিকের সব পরীক্ষা বাতিল হয়ে গিয়েছে। মোবাইল নিয়ে এবার বাড়তি সতর্ক রয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। গতবছরও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। এবার তেমন ঘটনা এড়াতে পরীক্ষার গার্ড হিসেবে থাকা শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদেরও মোবাইল সেন্টার সেক্রেটারি বা ভেনু সুপারভাইজারের কাছে জমা রাখার লিখিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়। এমনকী কেউ মোবাইল না নিয়ে সেন্টারে এলে তাঁকে কার্যত মুচলেকা দিতে হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নিয়ে ঢোকা আটকাতে তল্লাশিতে জোর দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ওই ছাত্রী কীভাবে স্মার্টফোন নিয়ে ঢুকে পড়ল সেই প্রশ্ন উঠছে।
Advertisement
মাধ্যমিক পরীক্ষার পশ্চিম বর্ধমান জেলা কনভেনর রাজীব মুখোপাধ্যায় বলেন, স্পর্শকাতর সমস্ত পরীক্ষাকেন্দ্রেই মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। পড়ুয়াদের সেন্টারের গেটে তল্লাশি করেছিলেন একজন সিনিয়র শিক্ষিকা। মেয়েটি কোনওভাবে মোবাইলটি লুকিয়ে ঢুকেছিল। যদিও সে মোবাইল ব্যবহার করার আগেই আমরা তাকে ধরে ফেলি। বোর্ডের নির্দেশে পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। এখনকার নিয়ম অনুযায়ী এবছরের জন্য কোনও পরীক্ষা সে দিতে পারবে না। এদিন জেলার ৪৯২জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। আসানসোল জেলা হাসপাতাল থেকে দু’জন পড়ুয়া ইংরেজি পরীক্ষা দিয়েছে।



