সংবাদদাতা, বারুইপুর: চারতলা বাড়ি। এই বাড়িতেই থাকেন এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। একতলায় ভাড়া থাকে এক কারবারি। সে তার স্ত্রীকে নিয়েই থাকত এই বাড়িতে। তার আলু-পেঁয়াজের ব্যবসা। এই ব্যবসার আড়ালে চলত কোটি কোটি টাকার মাদকের কারবার। কেউ টের পায়নি এতদিন। মঙ্গলবার এই ভাড়াটিয়ার ঘরে দিনভর তল্লাশি চালায় রাজ্য পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ও বারুইপুর থানার পুলিস। শেষমেশ সন্ধ্যার পর জানা যায়, এক কোটি টাকার হেরোইন, প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রচুর গয়না পাওয়া গিয়েছে। ওই নোট গুনতে মেশিন আনতে হয়েছিল তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, গভার রাত পর্যন্ত তল্লাশি চলেছে। ওই বাড়ি থেকে মোকলেস শেখ ও তার শাশুড়ি সেরিনা বিবিকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত মোকলেসের স্ত্রী বাড়িতে ছিল না। এদিকে, কয়েক কোটি টাকার মাদক উদ্ধারের কথা চাউর হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা এসে ওই বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করে। তাঁরা গোটা ঘটনা শুনে তাজ্জব বনে যান। বারুইপুরের কল্যাণপুর পঞ্চায়েতের খোদারবাজার মণ্ডলপাড়ায় বাড়ি ওই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের। তাঁর নাম আব্দুস সামাদ। এই বাড়ির একতলায় গত দু’বছর ধরে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকত উস্থির নেতড়া এলাকার বাসিন্দা মোকলেস শেখ। তার দুই ছেলে। এলাকায় মোকলেসের আলু-পেঁয়াজের একটি দোকান। প্রতিবেশীদের কথায়, মোকলেস এই ব্যবসার আড়ালে যে মোদকের কারবার করত, তা কেউ টের পাননি। এই কারবারে তাকে সাহায্য করত শাশুড়ি সেরিনা বিবি। মগরাহাটের বাসিন্দা সেরিনা মূলত মাদক সরবরাহের কাজ করত। সেরিনা যে মাদক আনতে যাচ্ছে, গোপন সূত্রে সেই খবর পায় রাজ্য পুলিসের এসটিএফ। টাস্ক ফোর্সের পুলিস সুপার অনুরাধা মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি দল দুপুর ১২টার পর ওই বড়িতে তল্লাশি শুরু করে। সঙ্গে ছিল বারুইপুর থানার পুলিস। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্ত্রীকে পিছনে বসিয়ে সকালে বাইক নিয়ে বেরিয়ে যেত মোকলেস। ফিরত দুপুরের পর। জিজ্ঞাসা করলে বলত, তার আলু-পেঁয়াজের ব্যবসা। তবে পাড়ার লোকজনের সঙ্গে তাদের তেমন মেলামেশা ছিল না। পুলিস তদন্তের স্বার্থে ওই চিকিৎসককেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বাড়ির মালিকের কাছে তারা কী পরিচয় দিয়েছিল, তা পুলিস তদন্ত করে দেখছে।



