Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রেমিককে নৃশংস খুনে বধূর ৫ বছর ও স্বামীর অমৃত্যু কারাদণ্ড, মধ্যমগ্রাম কাণ্ডে সাত বছর পর সাজা

পড়শি ‘প্রেমিক’ যুবককে খুন করে দেহ কেটে লোপাটের চেষ্টায় বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত হয় দম্পতি। শুক্রবার সাজা ঘোষণা হল। অভিযুক্ত স্বামীকে আমৃত্যু ও স্ত্রীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রেমিককে নৃশংস খুনে বধূর ৫ বছর ও স্বামীর অমৃত্যু কারাদণ্ড, মধ্যমগ্রাম কাণ্ডে সাত বছর পর সাজা
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পড়শি ‘প্রেমিক’ যুবককে খুন করে দেহ কেটে লোপাটের চেষ্টায় বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত হয় দম্পতি। শুক্রবার সাজা ঘোষণা হল। অভিযুক্ত স্বামীকে আমৃত্যু ও স্ত্রীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।  

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর। পড়শি যুবককে  শ্বাসরোধ করে খুন করে দম্পতি। মৃতের মাথা ও হাঁটুর নীচ থেকে দুই পা কেটে নোয়াই খালে ফেলে দিয়েছিল তারা। মধ্যমগ্রামের নৃশংস ঘটনায় দোষী জাকির হোসেনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও তার স্ত্রী আর্জিনা বিবির পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
রোহণ্ডা-চণ্ডীগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ যোজরা গ্রামের বাসিন্দা দম্পতি। ঘটনার রাতে আর্জিনা বিবি বাড়িতে একা ছিলেন। সেই সুযোগে বাড়িতে আসেন পড়শি ‘প্রেমিক’। জাকির হোসেন বাড়ি এসে আব্দুল হাসানের সঙ্গে স্ত্রী আর্জিনাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন। তারপর হাসানকে ধর্ষক অপবাদ দিয়ে গৃহবধূ স্বামীকে নিয়ে তাঁকে খুন করে। সমস্ত তথ্য প্রমাণ লোপাট করতেই ধারালো চপার দিয়ে যুবকের প্রথমে দু’টি পা কেটে ফেলে। মৃতের পরিচয় যাতে কোনওভাবে কেউ বুঝতে না পারে, সেজন্য মুণ্ড কেটে রেখে দেওয়া হয় জাকিরের গোপন আস্তানায়। নারকীয় খুন কাণ্ডে ষড়যন্ত্র এবং তথ্য প্রমাণ লোপাট করার ক্ষেত্রে স্বামী জাকির হোসেনকে সহযোগিতা করে স্ত্রী আর্জিনা। পরের দিন মধ্যমগ্রামের নোয়াই খাল থেকে দেহ ভেসে ওঠে আব্দুল হাসানের। দেহ শনাক্ত করেন মৃতের বাবা। তদন্ত চালিয়ে জাকির ও আর্জিনাকে গ্রেপ্তার করে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস। খুনের কথা স্বীকার করে নেয় দম্পতি। উদ্ধার হয় মৃত আব্দুল হাসানের মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশও। মামলা চলে বারাসত আদালতে। কোভিডের সময়কালে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পান জাকিরের স্ত্রী। কিন্তু জাকিরের জামিন হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তদন্তকারীরা দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় আদালতে। ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাত বছর মামলা চলার পর এদিন সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। সরকারি আইনজীবী সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি ফাঁসির দাবি জানিয়েছিলাম। যদিও জাকির হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড। আর তথ্যপ্রমাণ লোপাট, ষড়যন্ত্র ধারায় জাকিরের স্ত্রী আর্জিনা বিবিকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড। পাশাপাশি ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও একমাসের কারাদণ্ড। এদিকে বারাসত আদালতে দাঁড়িয়ে নিহত যুবকের বাবা আকবর আলি বলেন, আমার ছেলের শরীরে ১৮টি কোপ মারার দাগ ছিল। নৃশংস খুনের জন্য আমরা ফাঁসি চেয়েছিলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ