Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাতারে পাত্রী যেন বেহুলা! পাত্র যেন লখিন্দর, বাসরে ঢোকার আগেই সর্পদংশন হাসপাতালে বরকে বাঁচিয়ে ঘরে নববধূ

এ যেন বেহুলা লখিন্দরের কাহিনীর বাস্তব চিত্রনাট্য! বাসর ঘরে যাওয়ার পথে হবু বরকে দংশন করল ‘কালনাগিনী’। বেহুলার মতোই প্রার্থনা শুরু করলেন হবু স্ত্রী।

ভাতারে পাত্রী যেন বেহুলা! পাত্র যেন লখিন্দর, বাসরে ঢোকার আগেই সর্পদংশন হাসপাতালে বরকে বাঁচিয়ে ঘরে নববধূ
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এ যেন বেহুলা লখিন্দরের কাহিনীর বাস্তব চিত্রনাট্য! বাসর ঘরে যাওয়ার পথে হবু বরকে দংশন করল ‘কালনাগিনী’। বেহুলার মতোই প্রার্থনা শুরু করলেন হবু স্ত্রী। যেভাবেই হোক স্বামীকে বাঁচিয়ে তুলতেই হবে। পায়ে দংশন নিয়ে হবু বর পৌঁছে গেলেন মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। চিকিৎসক জানিয়ে দিলেন, বিষধর সাপ দংশন করেছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করতে হবে। কিন্তু তখনও সিদুঁরদান হয়নি। লগ্ন বয়ে যাচ্ছে। হবু স্ত্রী প্রার্থনার পাশাপাশি কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। হঠাৎই দেবদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন চিকিৎসক। তিনি জানিয়ে দেন, প্রাথমিক চিকিৎসা হয়ে গিয়েছে। আপনাকে আধঘণ্টা সময় দিতে পারি। তার মধ্যে আপনাকে বিয়ে করে আবার হাসপাতালে আসতে হবে। রাজি হয়ে গেলেন বর। তড়িঘড়ি টোপর মাথায় পৌঁছে গেলেন ভাতারের মুরাতিপুরে। সেখানেই বসেছিল বিয়ের আসর। মালাবদলের পর বীরভূমের লাভপুরের ওই যুবক আবার ফিরে গেলেন হাসপাতালে। বাসরঘরে বসে তখনও স্বামীর জন্য আবার প্রার্থনা শুরু করেন নববধূ। একদিন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর নববধূ জানতে পারেন তাঁর স্বামীর আর বিপদ নেই। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। শুরু হয়ে গেল হুল্লোড়।‘পারবে না কেউ তোমার আমার মাঝে দেওয়াল তুলে দিতে’ গানের তালে নাচছেন পাত্রী। শ্বশুরবাড়িতে এসে নববধূকে নিয়ে নিজের বাড়ি গেলেন ওই যুবক। এই বিয়ের কাহিনিতেই এখন মশগুল ভাতার থেকে লাভপুর।

Advertisement

স্থানীয়রা বলেন, রবিবার লাভপুর থেকে বরযাত্রীদের নিয়ে বিয়ে করতে আসছিলেন ওই যুবক। লোচনদাস সেতুর কাছে বরের গাড়ি দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে নেমে পায়চারি করার সময় তাঁকে সাপে কামড়ায়। পায়ে তীব্র জ্বালা শুরু হয়। গাড়িতে উঠে আলো জ্বালিয়ে তিনি দেখেন, সাপের দংশনের চিহ্ন স্পষ্ট। দ্রুত সেই খবর পৌঁছে যায় ভাতারের মুরাতিপুরে। বিয়েবাড়ির পরিবেশ মুহূর্তে বদলে যায়। কী হবে এই আশঙ্কায় সকলেই বাকরুদ্ধ। ভাতারের মুরাতিপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ভগবানের আশীর্বাদ ছাড়া এই মিরাকেল সম্ভব নয়। চন্দ্রবোড়া সাপে বরকে দংশন করেছিল। অত্যন্ত বিষধর সাপ। বর মনের জোরে বিয়ে করতে এসেছিলেন। চিকিৎসকরাও তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন। সেই কারণে নির্ধারিত লগ্নের মধ্যেই তিনি বিয়ের মণ্ডপে হাজির হয়ে যান। সকলেই তাঁর সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা করেছিলেন। সেই কারণেই এই বিয়ে সম্ভব হয়েছে। অনেকেই অবশ্য বলছেন, এ ভালবাসার জয়! অফুরন্ত মনের জোর আর প্রেমের শক্তিতেই চার হাত এক হয়েছিল। স্থানীয়রা বলছেন, লখিন্দরকে বাঁচানোর কাহিনী বইয়ের পাতায় পড়েছি বহুবার। আর ভাতারের মুরাতিপুর বাস্তবে সেই কাহিনিই চাক্ষুষ করল।  নবদম্পতি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ