নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এ যেন বেহুলা লখিন্দরের কাহিনীর বাস্তব চিত্রনাট্য! বাসর ঘরে যাওয়ার পথে হবু বরকে দংশন করল ‘কালনাগিনী’। বেহুলার মতোই প্রার্থনা শুরু করলেন হবু স্ত্রী। যেভাবেই হোক স্বামীকে বাঁচিয়ে তুলতেই হবে। পায়ে দংশন নিয়ে হবু বর পৌঁছে গেলেন মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। চিকিৎসক জানিয়ে দিলেন, বিষধর সাপ দংশন করেছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করতে হবে। কিন্তু তখনও সিদুঁরদান হয়নি। লগ্ন বয়ে যাচ্ছে। হবু স্ত্রী প্রার্থনার পাশাপাশি কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। হঠাৎই দেবদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন চিকিৎসক। তিনি জানিয়ে দেন, প্রাথমিক চিকিৎসা হয়ে গিয়েছে। আপনাকে আধঘণ্টা সময় দিতে পারি। তার মধ্যে আপনাকে বিয়ে করে আবার হাসপাতালে আসতে হবে। রাজি হয়ে গেলেন বর। তড়িঘড়ি টোপর মাথায় পৌঁছে গেলেন ভাতারের মুরাতিপুরে। সেখানেই বসেছিল বিয়ের আসর। মালাবদলের পর বীরভূমের লাভপুরের ওই যুবক আবার ফিরে গেলেন হাসপাতালে। বাসরঘরে বসে তখনও স্বামীর জন্য আবার প্রার্থনা শুরু করেন নববধূ। একদিন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর নববধূ জানতে পারেন তাঁর স্বামীর আর বিপদ নেই। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। শুরু হয়ে গেল হুল্লোড়।‘পারবে না কেউ তোমার আমার মাঝে দেওয়াল তুলে দিতে’ গানের তালে নাচছেন পাত্রী। শ্বশুরবাড়িতে এসে নববধূকে নিয়ে নিজের বাড়ি গেলেন ওই যুবক। এই বিয়ের কাহিনিতেই এখন মশগুল ভাতার থেকে লাভপুর।



