Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিল্লিতে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক বধূ, বউমাকে ভারতীয় প্রমাণে থানার দ্বারস্থ শাশুড়ি

অভাবের সংসারে দু’মুঠো ভাতের সন্ধানে স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন দিল্লিতে। তবে সেই রোজগারে হাঁড়িতে চাল ফুটলেও, সঙ্গে সব্জি জোটানো দায়।

দিল্লিতে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক বধূ, বউমাকে ভারতীয় প্রমাণে থানার দ্বারস্থ শাশুড়ি
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল  রানাঘাট

Advertisement

অভাবের সংসারে দু’মুঠো ভাতের সন্ধানে স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন দিল্লিতে। তবে সেই রোজগারে হাঁড়িতে চাল ফুটলেও, সঙ্গে সব্জি জোটানো দায়। তাই বাড়তি কিছু আয়ের খোঁজে দিল্লিতে স্বামীর কাছেই গিয়েছিলেন শান্তিপুরের গৃহবধূ শাকিলা বিবি। সেখানে কয়েকটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন তিনি। সেই তাঁকেই নাকি বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লি পুলিস আটক করেছে। এখন বউমাকে ভারতীয় প্রমাণ করতে মরিয়া বৃদ্ধা শাশুড়ি শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
শান্তিপুর থানা এলাকার নতুনহাট ঘরামিপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাকিলা বিবি। বেশ কয়েক বছর আগে শেখ শহিদুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক শহিদুল দিল্লিতে থাকেন। তাঁর স্বল্প রোজগারে সংসারে উনুন জ্বলছে না দেখে দিল্লিতে পরিচারিকার কাজ করতে যান শাকিলাও। আর শান্তিপুরের বাড়িতে একাই থাকতেন শাশুড়ি লালবানু বেওয়া। সম্প্রতি হঠাৎ তাঁর কাছে বউমার ফোন আসে। ফোনে শাকিলা জানান, বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লি পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। দ্রুত তাঁর ভারতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যেন শাশুড়ি শান্তিপুর থানায় যোগাযোগ করেন। এরপর সোমবার সকালে অসমর্থ শরীরেই বৃদ্ধা লালবানু শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ হন। তাঁর চোখে জল, আর হাতে ছেলে-বউমার ভারতীয় পরিচয়পত্র। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন বেশকিছু দলিল দস্তাবেজও। উপায় কী, ভারতীয় প্রমাণ করতে হবে যে। লালবানু বলেন, বউমা ফোন করে বলল, সেখানকার পুলিস নাকি ওকে বাংলাদেশি বলে গ্রেপ্তার করেছে। আমার বয়েস হয়েছে। এই অপোক্ত শরীর নিয়ে তো দিল্লি যেতে পারব না। তাই শান্তিপুর থানায় এসেছি। যাতে ওরা আমার বউমাকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করে। দু’সপ্তাহের বেশি হয়ে গেল, ওরা আমার বউমাকে আটকে রেখেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তৃণমূল সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের হেনস্তার তীব্র অভিযোগ করেছে তারা। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা দলীয়ভাবে ওই পরিবারটির পাশে রয়েছি। আমরা প্রশাসনের সাহায্যও চাইব। কী করে একজন ভারতীয় নাগরিক স্রেফ বাংলা বলার জন্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাদেশি বলে নিপীড়িত-নির্যাতিত হচ্ছেন। এই ঘটনাই তার সব থেকে বড় উদাহরণ। বাংলার মানুষ তো দেখতেই পাচ্ছেন, একজন বৃদ্ধা শাশুড়ি নিজের বউমাকে ভারতীয় প্রমাণ করার জন্য থানায় দরবার করছেন। এর জবাব বিজেপি নির্বাচনে পাবেই। অন্যদিকে, নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা ধরতে সমস্ত রাজ্যেই তল্লাশি চলছে। এই রাজ্যে হচ্ছে না, কারণ তারা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক। যদি কারও কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকে, বা সত্যিই তিনি ভারতীয় হন, তাহলে তাঁর কিছু হবে না। ভারতীয় জনতা পার্টি তাঁর সঙ্গে থাকবে। পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ওই বৃদ্ধা তাঁর বউমার কিছু ডকুমেন্ট নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। বাকি অন্যান্য তথ্যের জন্য আমরা শান্তিপুরে ওই গৃহবধূর বাড়ি লোক পাঠিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ