সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জলের পাইপ লাইন পাতার কাজ শেষ হলেও তাতে মাটি চাপা দেওয়া হয়নি। সেই মাটি রাস্তার ধারে ডাঁই হয়ে পড়ে রয়েছে। বৃষ্টিতে তা ধুয়ে গোটা রাস্তাই কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। তাতে বাইকের চাকা পিছলে পড়ে গেলে পিছন থেকে ইট বোঝাই লরি এসে পিষে দেয় ওই বাইকচালককে। বুধবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়া-শ্যামপুর সড়কের বাগাণ্ডা মনসাতলায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম শেখ মনিরুল ইসলাম (২৬)। তাঁর বাড়ি তপনা গ্রাম পঞ্চায়েতের অমৃতশাল গ্রামে। পুলিস দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘাতক লরিটিকে আটক করা হলেও চালক পলাতক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের জন্য উলুবেড়িয়া-শ্যামপুর রোডের পাশে পাইপলাইন পাতার কাজ চলছে। সেইমত বাগাণ্ডা মনসাতলায় মাটি খুঁড়ে পাইপলাইন পাতা হলেও আর মাটি চাপা দেওয়া হয়নি। বৃষ্টিতে সেই মাটি ধুয়ে কাদায় পরিণত হয়েছে। এদিন সকাল ৬টা নাগাদ মনিরুল বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাইকে করে ৫৮ গেটের দিকে যাচ্ছিলেন দোকান খুলতে। বাগাণ্ডা মনসাতলার কাছে বাইকের চাকা পিছলে গেলে রাস্তায় ছিটকে পড়েন মনিরুল। তখন ৫৮ গেটের দিক থেকে উলুবেড়িয়ার দিকে আসছিল ইট বোঝাই একটি লরি। সেই লরির চাকায় পিষে গিয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে শ্যামপুর ও উলুবেড়িয়া থানার বিশাল পুলিস বাহিনী। উলুবেড়িয়ার এসডিপিও শুভম যাদবকে ঘটনাস্থলে আসতে হয়। নামানো হয় র্যাফ। বেশ কিছুক্ষণ পথ অবরোধ চলার পর পুলিস মাটি ফেলে গর্ত বোজানোর আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠে যায়।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাটি খুঁড়ে পাইপ বসানো হলেও তাতে আর মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে না। যে কারণে ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই আছে। এদিন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে বিষয়টি নিয়ে হইচই হয়েছে। ছুটে এসেছেন পুলিস প্রশাসনের আধিকারিকরা। নাহলে এ বিষয়ে কেউ নজরই দিতেন না। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে যুবকের।