লখনউ: দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ। হার-জিত পরের বিষয়। তবে লজ্জার মাথা খেয়েআজব কাণ্ড ঘটালেন যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশের এক পুরসভার কাউন্সিলাররা। হাতে গঙ্গাজল নিয়ে ঘুষের টাকা সমানভাগে ভাগ করার শপথ নিলেন বিজেপি শাসিত শাহজাহানপুর পুরসভার কাউন্সিলাররা। হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। কেউ একা সব চেটেপুটে খেতে পারবে না। এমন গুরুতর ‘অন্যায়’ কিন্তু বরদাস্ত করা হবে না। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে এই ‘নির্লজ্জ’ শপথগ্রহণের ভিডিয়ো। এই ঘটনার নিন্দায় সরব কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি সহ বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেসের শাহজাহানপুর জেলার সভাপতি রজনীশ গুপ্তার কটাক্ষ, রাজ্যে পুর-দুর্নীতি চরমে। ভোটে জেতার পর কাউন্সিলাররা শপথ নিয়েছিল। এবার একটু অন্যরকম শপথের দৃশ্য দেখলাম। তা কোনটি সত্যি? অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। রাতারাতি কাউন্সিলারদের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়েও সরব হয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ।
সংশ্লিষ্ট পুরসভায় কাউন্সিলারের সংখ্যা ৬০। অধিকাংশই বিজেপির। ভিডিয়োতেও মূলত বিজেপি কাউন্সিলারদেরই দেখা গিয়েছে। হাতে গঙ্গাজল নিয়ে একজন শপথবাক্য পাঠ করছেন। বাকিরা তাঁকে অনুসরণ করছেন। সেখানে বলা হচ্ছে — ঘুষের টাকা ‘সততার সঙ্গে’ সমানভাবে ভাগ করা হবে। যদি কেউ বিপদে পড়েন তাহলে তাঁর পাশে দাঁড়াবেন বাকিরা। সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বেন। শপথ ভেঙে কেউ গদ্দারি করলে তাঁকে রেয়াত করা হবে না। এইসময় এক কাউন্সিলার আবার গদ্দারদের বাবা-মা তুলে গালাগালি করতে শুরু করেন। শপথগ্রহণ শেষে কেউ সামনে জল ফেলে দেন। কেউ মাথায় হাত বোলান। কেউ শপথের গঙ্গাজল পানও করেছেন।
বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছেন কাউন্সিলাররা। লালু পুজারী নামে এক কাউন্সিলারের সাফাই, ভিডিয়োর ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কাউন্সিলার অনুপ গুপ্তার দাবি, পুরানো ভিডিয়ো ছড়িয়ে আমাদের বদনাম করার চেষ্টা চলছে। বাকিদের বক্তব্য, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তহবিল বণ্টন নিয়ে কথা হচ্ছিল। দায়সারা উত্তর দিয়েছেন মেয়রও। এনিয়ে পুরকমিশনার সৌম্যা গুরুরানি জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সমাজমাধ্যম।