বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: বর্ধিত হারে পেনশন দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে কেন্দ্র। পিএফের আওতায় থাকা লক্ষ লক্ষ পেনশনভোগী এজন্য আবেদন জানিয়েছেন। বর্ধিত হারে পেনশন পেতে জমা করেছেন টাকাও। কিন্তু আচমকাই এ সংক্রান্ত সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বন্ধ করেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও। এমনকী তাদের এই গাফিলতি বা গা ছাড়া মনোভাবের কারণে যাঁরা দেরিতে পেনশন পাবেন, তাঁদের বাড়তি কোনও সুদ পর্যন্ত দেবে না কেন্দ্র। সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে করা একটি প্রশ্নের জবাবে একথা স্পষ্ট করে দিয়েছে ইপিএফও।
Advertisement
বর্ধিত হারে পেনশনের জন্য ইতিমধ্যেই সাড়ে ১৭ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে কেন্দ্রের কাছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার জনকেও সেই পেনশন দিয়ে উঠতে পারেনি কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, ইপিএফও কর্তৃপক্ষের কাছে থোক টাকা জমা করার কথা আবেদনকারীদের। বর্ধিত হারে পেনশন পেতে দেরি হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সেই টাকার সুদ দিতে হবে সরকারকে। কয়েক লক্ষ আবেদনকারী ইতিমধ্যেই সেই অর্থ জমা করে দিয়েছেন। আর তারপরই মুখে কুলুপ এঁটেছে ইপিএফও। এরই মধ্যে আরটিআই-এর মাধ্যমে সুদ সংক্রান্ত বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন হিমাচল প্রদেশের অজয় কাপুর নামে এক ব্যক্তি। প্রশ্ন ছিল, ‘২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে পেনশন বকেয়া। এদিকে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঙ্কের পেনশন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা দিতে পারেনি ইপিএফও। এক্ষেত্রে তারা কি বকেয়া সুদ দেবে?’ জবাবে শ্রমমন্ত্রকের আওতায় থাকা সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম বা ইপিএসের আওতায় কোনও টাকা বাকি থাকলে, তার উপর সুদ দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই ইপিএফওর।’ এখানেই শেষ নয়, ওই ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন, ‘এখন যে পেনশন পাচ্ছি, তা কবে বর্ধিত হারে পেনশনে রূপান্তরিত হবে?’ জবাবে দপ্তর জানিয়েছে, তাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে তাঁকে বর্ধিত হারে পেনশন দেওয়ার পরিস্থিতি নেই। প্রশাসনিক কাজকর্ম যেটুকু এগিয়েছে, তাতে এটুকুই জানানো সম্ভব। এই সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় আর জানানো যাবে না।
আরটিআইয়ের এই জবাবে প্রশ্ন উঠছে গোটা প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়েই। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও বর্ধিত হারে পেনশন নিয়ে দপ্তরের অন্দরে যে অস্বচ্ছতার পাহাড় জমেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এপ্রসঙ্গে তোপ দেগেছেন ইপিএস-৯৫ স্কিমের আওতায় থাকা পেনশনভোগীদের সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি তপন দত্ত। তিনি বলেন, ‘গোড়া থেকেই বর্ধিত পেনশন নিয়ে দপ্তরের অন্দরের ধোঁয়াশার কথা বলে এসেছি। আমাদেরও প্রশ্ন ছিল, যেখানে পেনশনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারেরই চাহিদা অনুযায়ী লক্ষ লক্ষ টাকা তাদের কাছে জমা করতে হচ্ছে, সেখানে কেন সুদ পাবেন না প্রবীণরা? কারণ, বৃদ্ধ বয়সে প্রায় সবাই ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয় ভাঙিয়ে, আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়েই সেই টাকা জমা করছেন। সেক্ষেত্রে সময়ে পেনশন না দিলে, সরকারের উচিত জমা টাকার উপর সুদ প্রদান করা।’
আরটিআইয়ের এই জবাবে প্রশ্ন উঠছে গোটা প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়েই। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও বর্ধিত হারে পেনশন নিয়ে দপ্তরের অন্দরে যে অস্বচ্ছতার পাহাড় জমেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এপ্রসঙ্গে তোপ দেগেছেন ইপিএস-৯৫ স্কিমের আওতায় থাকা পেনশনভোগীদের সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি তপন দত্ত। তিনি বলেন, ‘গোড়া থেকেই বর্ধিত পেনশন নিয়ে দপ্তরের অন্দরের ধোঁয়াশার কথা বলে এসেছি। আমাদেরও প্রশ্ন ছিল, যেখানে পেনশনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারেরই চাহিদা অনুযায়ী লক্ষ লক্ষ টাকা তাদের কাছে জমা করতে হচ্ছে, সেখানে কেন সুদ পাবেন না প্রবীণরা? কারণ, বৃদ্ধ বয়সে প্রায় সবাই ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয় ভাঙিয়ে, আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়েই সেই টাকা জমা করছেন। সেক্ষেত্রে সময়ে পেনশন না দিলে, সরকারের উচিত জমা টাকার উপর সুদ প্রদান করা।’



