সংবাদদাতা, সিউড়ি: বাঁধনা পরব উপলক্ষ্যে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠল বীরভূমের আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলি। ধামসা, নাগরা-মাদল গলায় ঝুলিয়ে গ্রামের রাস্তায় নাচগানের আনন্দে মেতে উঠেছেন আদিবাসীরা। ২৬পৌষ থেকে জেলাজুড়ে পরবের সূচনা হয়েছে। চলবে ২মাঘ পর্যন্ত। সেজে উঠেছে জেলার বিভিন্ন ব্লকের আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলি। মহম্মদবাজার, সাঁইথিয়া, সিউড়ি-১, সিউড়ি-২, রাজনগর সহ একাধিক ব্লকের আদিবাসীরা আনন্দে মেতে উঠেছেন। গোবর ও মাটি দিয়ে নিকনো দেওয়ালে নকশা আঁকা হয়েছে। উঠান থেকে শুরু করে আটচালা সাজিয়ে তুলেছেন। খড়িমাটি, লালমাটি, ভুসোকালি, নীল সহ নানা প্রাকৃতিক সামগ্রী দিয়ে রং তৈরি করে নিজেরাই ছবি এঁকে সাজিয়ে তুলেছন ঘর। পরবের এই কয়েকটা দিন কচিকাঁচা থেকে শুরু করে গ্রামের গৃহবধূরাও নাচগানে মেতে উঠেছেন। ধামসা মাদলের তালে নৃত্য করেন মহিলারা। পাশাপাশি খাবারেও থাকে বিশেষ আকর্ষণ। পৌষ সংক্রান্তিতে তৈরি হয়েছে পিঠেপুলি। সেইসঙ্গে নানারকম লাড্ডু, মিষ্টি ইত্যাদি। প্রথা অনুযায়ী উৎসবের মুহূর্তে আনন্দ করতে বহু আদিবাসী গৃহবধূ বাপেরবাড়িতে যান। মহম্মদবাজার ব্লকের দেউচা পাচামি এলাকায় প্রায় ৩০টি গ্রাম আদিবাসী অধ্যুষিত। রাজনগর ব্লকেরও ১৫টির বেশি আদিবাসী গ্রামে চলছে উৎসব। সিউড়ির নগরীর বাসিন্দা ভারতীয় বিশেষ মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় পাপিয়া মুর্মু, সোনালি হেমব্রমরাও বাঁদনা পরবের উৎসবে মেতে উঠেছেন। আদিবাসী গাঁওতা নেতা রবিন সরেন বলেন, পরবের আনন্দে সকলে মেতে উঠেছি। নাচগানের সঙ্গে দিনভর নানা খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও করা হয়েছে। শ্রমিকরাও এই কয়েকদিন আনন্দে মেতে ওঠেন। সেকারণে উৎসবের কয়েকটা দিন পাথর শিল্পাঞ্চল এলাকা বন্ধ থাকে।



