নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি বিজেপি বাংলার সঙ্গে কতটা সম্পৃক্ত, তা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। বাঙালি অস্মিতার প্রশ্নকে উসকে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গেরুয়া শিবিরকে লাগাতার আক্রমণ করে। এবার বঙ্গ বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী চয়ন ঘিরে পার্টির মহিলা নেত্রীরা চরম ক্ষোভ ব্যক্ত করছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত আসন না জেতায় দীর্ঘ প্রায় চার দশক রাজ্য সভায় প্রতিনিধি পাঠাতে পারত না। ২০১৪ সালের পর মোদি ম্যাজিককে সামনে রেখে এরাজ্যে বিজেপির পালে বাড়তি হাওয়া বইতে শুরু করে। পরবর্তী সময় ‘পিছনের দরজা দিয়ে’ রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য হিসেবে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল বিজেপি।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ৭৭টি আসন দখলের পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিধায়কদের ভোটে সংসদের উচ্চকক্ষে বাংলা থেকে বিজেপি প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিজেপির মহিলা নেত্রীদের প্রশ্ন, আমাদের দলে যোগ্য নারী প্রতিনিধি নেই, যাঁকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত করা যায়? এবার সেই সুযোগ পেয়েও কেন ফের একজন পুরুষকে আইনসভায় পাঠানো হচ্ছে? ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনজন প্রতিনিধি রাজ্যসভায় বিজেপি পাঠাতে পেরেছে। এঁরা হলেন অনন্ত মাহারাজ, শমীক ভট্টাচার্য সর্বশেষ রাহুল সিনহা। সেই সূত্রে দলের মধ্যে বিতর্ক হচ্ছে, কেন মহিলা প্রতিনিধি বাছা হচ্ছে না? অভিযোগ, যোগ্যতা নয় ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা রাজনৈতিক সমীকরণের ভিত্তিতে রাজ্যসভার প্রার্থী মনোনয়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্য বিজেপির ‘মহিলা মহল’-এর মধ্যে তৈরি হওয়া এই অসন্তোষ বিরাট প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বঙ্গ বিজেপিতে মহিলাদের নিয়ে এই মানসিকতা কেন? দলের মধ্যে প্রতিকার চাইছে অনেকেই। তাঁদের কথায়, তৃণমূল প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মহিলাদের গুরুত্ব দেয়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রীসহ গুচ্ছ প্রকল্পের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার নারীদের বিপুল সমর্থন পাচ্ছেন। আর বিজেপিতে খোদ নেত্রীদের প্রতি এই অবনামনা দেখে আম ভোটাররা পদ্মচিহ্নের প্রতি আদৌ আকৃষ্ট হবেন কি না, উঠছে সেই প্রশ্ন।