Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বিপ্লবী রোষে লর্ড হার্ডিঞ্জ 

১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর। বেলা পৌনে বারোটা। হাতির পিঠে চড়ে দিল্লির স্টেশন থেকে আম দরবারে যাচ্ছেন সস্ত্রীক নতুন বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জ। দিল্লিকে ব্রিটিশ ভারতের নতুন রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন তিনি। রাস্তার দু’ধার ভিড়ে ঠাসা।

বিপ্লবী রোষে লর্ড হার্ডিঞ্জ 
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর। বেলা পৌনে বারোটা। হাতির পিঠে চড়ে দিল্লির স্টেশন থেকে আম দরবারে যাচ্ছেন সস্ত্রীক নতুন বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জ। দিল্লিকে ব্রিটিশ ভারতের নতুন রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন তিনি। রাস্তার দু’ধার ভিড়ে ঠাসা। শোভাযাত্রা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে জনতা। ভিড়ে মিশে ছিলেন বাংলার দুই বিপ্লবী— রাসবিহারী বসু ও বসন্ত বিশ্বাস। দু’জনেই মহিলার ছদ্মবেশে। ভিড়ের মধ্যে রাসবিহারী শুধোলেন বসন্তকে, ‘তেরি নাম ক্যায়া হ্যায় বহিনি?’ উত্তর এল—মেরি নাম লীলাবতী। শোভাযাত্রা তখন এগিয়ে এসেছে। সমবেত মহিলাদের নজর ঘোরানোর জন্য রাসবিহারী মহা কৌতূহলের সুরে বললেন, ‘বড়া আজব, সামনে দেখ বহিনি।’ সকলের নজর শোভাযাত্রায় পড়ার মুহূর্তেই ইঙ্গিত করলেন রাসবিহারী। চোখের পলকে হার্ডিঞ্জকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়েন লীলাবতী। দুর্ভাগ্যবশত বোমা লাগে হাতির গায়ে। হার্ডিঞ্জ আহত হয়ে নীচে পড়ে গেলেও প্রাণে রক্ষা পান। তাঁর স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। প্রবল হুড়োহড়ির মধ্যে ভিড়ে মিশে উধাও হয়ে যান রাসবিহারী ও বসন্ত। ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে উনিশ শতকের শেষ অর্ধ থেকেই বাংলায় প্রবল আন্দোলন গড়ে ওঠে। সারা দেশে জাতীয়তাবাদী ও স্বাধীনতাকামী চিন্তাভাবনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে বাংলা। এই পরিস্থিতিতে বাঙালিকে দুর্বল করতে ‘ভাতে মারার’ কৌশল নেয় ব্রিটিশরা। বিভাজন নীতিকে হাতিয়ার করে নেওয়া হয় বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত। তখন ব্রিটিশ ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন। ১৯০৫ সালে তাঁর ঘোষণার পর প্রতিবাদে গর্জে ওঠে বাংলা। ক্রমেই তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিরোধী আন্দোলনের চেহারা নেয়। সমগ্র ভারতেই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার চূড়ান্ত দমন নীতির আশ্রয় নেয়। সেইসঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিভাজনে উস্কানি দিতে থাকে তারা। এরই মধ্যে সশস্ত্র বিপ্লবী গোষ্ঠীগুলির সক্রিয়তা শাসকদের সন্ত্রস্ত করে তোলে। ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত রদ করা হয়। কিন্তু কলকাতাকে ভারতের রাজধানী থেকে প্রাদেশিক রাজধানীতে পরিণত করা হয়। জবাবে ব্রিটিশদের সবক শেখাতে ছাড়েননি সশস্ত্র বিপ্লবীরা। ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরানোর অনুষ্ঠানেই লর্ড হার্ডিঞ্জকে হত্যার মতো দুঃসাহসী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন তাঁরা।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ