নয়াদিল্লি: গ্লাসগোয় কমনওয়েলথ গেমসের সাফল্য দ্রুত অতীত। এবার এশিয়ান গেমসেই ফোকাস অ্যাথলিটদের। ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানে শুরু হতে চলেছে এশিয়াডের ২০তম সংস্করণ। স্বাভাবিকভাবেই কমনওয়েথের কীর্তিকে পিছনে ফেলে নতুন চ্যালেঞ্জেপ জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু। মঙ্গলবার ভোরে বিমানবন্দরে বরণের পর ভারতীয় অ্যাথলিটদের গলায় ধরা পড়েছে সেই তাগিদ।
আইজিআই এয়ারপোর্টে সংবাদ সংস্থাকে মহিলাদের ৬০ কেজি বক্সিংয়ে সোনাজয়ী প্রিয়া ঘানঘাস বলেছেন, ‘এমন বড়ো আসরে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত তোলার অনুভূতি অসাধারণ। চিরজীবন তা মনে থাকবে। তবে এরমধ্যেই এশিয়ান গেমসে মন দিয়েছি। ওখানে আরও একটা সোনা জেতাই লক্ষ্য।’ কমনওয়েলথ গেমসে বক্সিংয়ে ভারত পেয়েছে মোট ১০টি পদক। এরমধ্যে মহিলাদের সংগ্রহ ৬টি।
বিমানবন্দরে পদকজয়ীদের জন্য ছিল রীতিমতো উন্মাদনা। দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে বেজেছে ঢাকঢোল। পরিবারের সদস্যরা ফুলের মালা পরিয়ে দেন তাঁদের। ভোর ৪টের সময়ও ভিড় ছিল সইশিকারিদের। আন্তর্জাতিক আসরে ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে প্রথমবার হারিয়ে নজির গড়া সাক্ষী চৌধুরী বলেন, ‘স্বপ্নের মতো লাগছে। প্রতি রাতেই সোনা জেতার স্বপ্ন দেখি। তারপর জাতীয় সংগীত বাজতে থাকে। স্বপ্নে এরপর দেখি দেশে ফেরার সময় আমাদের ঘিরে তুমুল উৎসাহ-উন্মাদনা। ঠিক যেমনটা এখন হচ্ছে। মনে হচ্ছে ওই স্বপ্নটাই সত্যি ঘটছে। আমার পরের টার্গেট এশিয়ান গেমস। সেখানে এই সাফল্য ধরে রাখাই লক্ষ্য।’
জেসমিন লম্বোরিয়ার কাছে সোনা জেতার আবার অন্য তাৎপর্য রয়েছে। কমনওয়েলথ শুরু হওয়ার কিছুদিন আগেও অসুস্থ ছিলেন তিনি। ফলে প্রস্তুতি ঠিকঠাক নেওয়া হয়নি। জেসমিনের কথায়, ‘অসুস্থতা সারিয়ে তিন সপ্তাহ আগে ট্রেনিং শুরু করেছিলাম। কিন্তু রিংয়ে প্রবেশের পর সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম। নিজের সেরাটা দেওয়াই ছিল লক্ষ্য।’ জেসমিনের চূড়ান্ত টার্গেট ২০২৬ লস এঞ্জেলস ওলিম্পিকসে সোনা জেতা। তার আগে এশিয়ান গেমসের সোনা পকেটে পুরতে তিনি মরিয়া। বক্সার শচীন সিওয়াচও একই সুরে মন্তব্য রেছেছেন। পরিষ্কার, ভারতীয় অ্যাথলিটদের নজর এখন মিশন এশিয়াডেই।