Bartaman Logo
৮ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই থামানোর বার্তা বোসপুকুর শীতলা মন্দিরে, রাজডাঙা নব উদয়ের থিম ‘শোধন’

২০২৬ সালেও যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে বিশ্বের একাংশ। অন্য দেশ দখলের নেশায় যেন উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন রাষ্ট্রনেতারা।

প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই থামানোর বার্তা বোসপুকুর শীতলা মন্দিরে, রাজডাঙা নব উদয়ের থিম ‘শোধন’
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভজিৎ অধিকারী, কলকাতা: ২০২৬ সালেও যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে বিশ্বের একাংশ। অন্য দেশ দখলের নেশায় যেন উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন রাষ্ট্রনেতারা। মিসাইল, বোমার আঘাতে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে একের পর একটা জনপদ। মৃত্যু হচ্ছে শত শত মানুষের। কিন্তু এই ধ্বংসলীলায় কি শুধু প্রাণ যাচ্ছে? না, একটা বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশেরও। ফল ভুগতে হচ্ছে গোটা বিশ্বকে। প্রকৃতিও তার মত করে ‘প্রতিশোধ’ নিচ্ছে। মানুষের এই প্রকৃতির বিরুদ্ধে ‘লড়াই’ থামানোর বার্তা দিতেই কসবার বোসপুকুর শীতলামন্দির দুর্গোৎসব কমিটির এবারের থিম ‘চুপ’। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই বিরাজ করবেন মা দুর্গা। তিনিই এখানে আদি, অনন্ত প্রকৃতি। তাঁকে ছাপিয়ে যাওয়ার সাধ্য কারও নেই। তাই মানুষের চুপ করে যাওয়াই শ্রেয়—এমন বার্তাই দেওয়া হবে। অসুরকে কল্পনা করা হয়েছে রাজা বা রাষ্ট্রশক্তি হিসাবে। সেই রাজাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করছেন প্রকৃতি মা। এবারও বোসপুকুর শীতলামন্দিরের মণ্ডপ ও প্রতিমার দায়িত্বে আছেন তুষার প্রধান। কাঠ সহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছেন তিনি। জানালেন, যুদ্ধের ধ্বংসলীলাকে কোথাও সরাসরি, কোথাও বিমূর্তভাবে ফুটিয়ে তুলতে চান তিনি।

Advertisement

কসবার বড় দুর্গাপুজোগুলির অন্যতম রাজডাঙা নব উদয় সংঘ। প্রতি বছরই থিমের ভাবনায় চমক দিয়ে আসছে এই পুজো। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার  এবার নব উদয় সংঘের থিম ‘শোধন’। বিরাট জায়গাজুড়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। এবারও সামগ্রিক পরিকল্পনায় রয়েছেন শিল্পী দেবাশিস বারুই। প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সৈকত বসু। দর্শকরা মণ্ডপ চত্বরে গেলে মনে হবে কোনো কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু ভিতরে ঢুকলেই পালটে যায় দৃশ্যপট। মূলত লোহা ও তার সঙ্গে নানাবিধ সামগ্রী দিয়ে কারখানার আদলে দেবাশিসবাবু সাজিয়ে তুলছেন মণ্ডপ। থিম সম্পর্কে তিনি জানালেন, এই যে কারখানা তৈরি হচ্ছে তার একটি ‘প্রোডাক্ট’ হল শোধন। কারখানার ভিতরে ঢুকলে সেটি দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। মূলত প্রকৃতিকে ভিত্তি করেই মণ্ডপসজ্জা করেছেন তিনি। তবে এই থিমকে কোনো নির্দিষ্ট ভাবনার মধ্যে বেঁধে রাখতে চাননি শিল্পী। দেবাশিসবাবুর বক্তব্য, একেকজন দর্শক একেকভাবে এটিকে দেখবেন। তিনি তাঁর মত করে ধারণা তৈরি করবেন। কারণ প্রকৃতির মধ্যেই সব কিছু রয়েছে। 
অন্যদিকে, বোসপুকুর তালবাগান সর্বজনীনের পুজোয় ফুটে উঠছে ‘দুগ্গা অ্যালবাম’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে একঝাঁক নস্টালজিয়াকে ফিরিয়ে আনছেন শিল্পী সঞ্জীব সাহা। প্রতিমা তৈরি করছেন সৌমেন পাল। কিছু বছর আগেও আমরা বিভিন্ন মুহূর্তকে ধরে রাখতাম ফটো অ্যালবামে। ফোন গ্যালারি আর ক্লাউড স্টোরেজ তখনও আসেনি। তালবাগানের মণ্ডপকেও সেই ফটো অ্যালবামের মত করেই সাজিয়ে তুলছেন শিল্পী। সাদা-কালো আর সিপিয়া টোনের ছবি, কাঠের ফ্রেম, গ্রামোফোন, ক্যাসেটের ফিতে, আর পুরানো দিনের পুজো— সব কিছুই ধরা পড়বে দুগ্গা অ্যালবামে। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া আটের দশকের ছোঁয়া পাবেন দর্শনার্থীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ