বিষ্ণুপদ বর্মন, হলদিবাড়ি: ভারত-বাংলাদেশ উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি জরিপের কাজ শুরু হতেই গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিএসএফের প্রস্তাবিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার থেকে ৩৫০ গজ দূরে এই বেড়া দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তের জেরেই জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি ও জমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভারত-বাংলাদেশের মোট ২৯ কিমি সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে ১৬ কিমি এলাকা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। এই উন্মুক্ত অংশের নতুনবস্তি, নলজোওয়া পাড়া, চিলডাঙা, বারুইপাড়া, বনগ্রাম, ডাকেরকামাত সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা দেশের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আগেই জমি দিতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু, সম্প্রতি বিএসএফ ৩৫০ গজ দূরে বেড়া দেওয়ার নির্দেশ জারি করতেই ফৌদারপাড়া, ছয়ঘরিয়া পাড়া, নতুনপাড়া, বুড়িজোত সহ মোট ১৪টি গ্রামের বাসিন্দারা গভীর চিন্তায় পড়েছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি ফৌদার পাড়ায় বেরুবাড়ি প্রতিরক্ষা কমিটি ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গ্রামবাসীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকে এলাকাবাসী স্পষ্ট দাবি জানান, নিজেদের ভিটেমাটি ও বাড়ি বাদ দিয়ে যেন কাঁটাতারের বেড়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা পলেন্দ্রনাথ রায় ও দেবকুমার রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ২০১২ সালে যখন তিন বিঘা করিডর ২৪ ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি চালু করা হয়েছিল, তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে জিরো পয়েন্ট ঘেঁষেই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। সেই আশ্বাসের ওপর ভরসা করেই অনেকে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে পাকা বাড়ি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু, এখন হঠাৎ ৩৫০ গজ দূরে বেড়া দেওয়া হলে কয়েকশো পরিবারকে উচ্ছেদ হতে হবে।



