নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: কয়েক দশক আগেও আটচালা বা মঞ্চের পাশে চাটাই পেতে যাত্রা দেখার চল ছিল গ্রাম বাংলায়। ইন্টারনেট, রিলসের যুগেও সেই চল আবার ফিরছে। গ্রাম বাংলায় আগ্রহ বাড়ছে যাত্রাপালা নিয়ে। বৃহস্পতিবার রথযাত্রার দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের আবির্ভাব ভূমি কামারপুকুরে নায়েকদের ভিড় স্বস্তি দিয়েছে যাত্রার দলগুলিকে। বুকিংয়ে ভালো সাড়া মিলেছে বলেই দাবি অনেকের। নায়েকরা ঘুরে ঘুরে বুকিং করেছেন পালা। কেউ আবার ট্র্যাডিশন মেনে একই দলে বায়না করেছেন।
রামকৃষ্ণদেব নিজে যাত্রার দর্শক ছিলেন। নিয়ম করে যাত্রা, থিয়েটার দেখতেন। কামারপুকুর তাই ‘মিনি চিৎপুর’ নামে খ্যাত। নামী, অনামী শিল্পীদের রুজিরুটিও আসে এখান থেকেই। প্রত্যেক বছরের মতো এদিনও বিভিন্ন দল নতুন পালার পসরা নিয়ে অস্থায়ী অফিস খুলেছিল। পোস্টার, ব্যানার, ফুল দিয়ে সাজানো হয় অস্থায়ী অফিসগুলি। সামাজিক, পৌরাণিক, ভক্তিমূলক পালার পোস্টার দিয়ে সাজানো হয়। সেখানেই ভিড় জমান হুগলির পাশাপাশি বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বর্ধমানের যাত্রাপালার আয়োজক, অর্থাৎ নায়েকরা।
এক দলের কর্ণধার কেশব বৈরাগ্য বলেন, এবার প্রায় ১৩টি দল যাত্রাপালার অফিস খুলেছিল। সবাই বুকিংয়ে সাড়া পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় বুকিংও বেশি হয়েছে। গ্রাম বাংলায় যাত্রা নিয়ে মানুষের আগ্রহ আছে। আমরা এবার একটি পৌরাণিক ও একটি সামাজিক যাত্রা পালা করছি। পৃথক দু’টি পালাতেই বুকিং মিলেছে। তবে সামাজিক পালাতেই বুকিং বেশি হয়েছে।
আরেক গোষ্ঠীর তরফে মনোজ মণ্ডল বলেন, পুরনো পালা আছেই। তার সঙ্গে এবার সামাজিক পালায় বায়না বেশি মিলেছে। এবার সংখ্যায় নায়েক বন্ধুরা কম এসেছেন। কিন্তু বুকিং তুলনামূলক ভালো হয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজোর সময় থেকেই যাত্রাপালা মঞ্চস্ত শুরু হবে, সারা বছর চলবে। পুরুলিয়া, দুই মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে নায়েকরা বুকিং করতে এসেছেন। আরামবাগের রামনগরের বাসিন্দা বিদ্যুৎ নন্দী বলছেন, ফাল্গুন মাসে এলাকায় পীরের মেলা উপলক্ষ্যে ৫৭ বছর ধরে যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়। পরপর দু’ দিন যাত্রা হয়। এদিন কামারপুকুরে এসে দু’টি সামাজিক পালার বুকিং করতে এসেছি।
আর কিছুদিন পরেই কামারপুকুরে যাত্রাপালার মহড়া শুরু হবে। প্রায় এক মাস ধরে দু’টি শিফটে মহড়া চলে। পালা আরও আকর্ষণীয় করতে কলকাতা থেকেও নায়ক, নায়িকা ও ভিলেন চরিত্রে শিল্পীদের নিয়ে আসছে দলগুলি। এছাড়াও কামারপুকুর সহ সংলগ্ন এলাকার শিল্পীরাও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যেও অনেকে নায়ক, নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করছেন। তবে যাত্রাদলের কর্মকর্তাদের অনেকের দাবি, নতুন শিল্পীদের এই শিল্পে অংশগ্রহণের আগ্রহ কিছুটা কম। আর্থিক সুরক্ষার বিষয়ে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা। নিজস্ব চিত্র