সংবাদদাতা, খড়্গপুর: বাড়ির অদূরে ধানখেত থেকে মিলেছিল দেহ। খুনের অভিযোগ তুলেছিল পরিবার। ঘটনার দু’বছর পর ভাইয়ের খুনের ‘বিচার’ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হন দাদা। পরিবারকে আশ্বস্ত করে সঠিক তদন্তের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
২০২৪ সালের ২২ মার্চ ঘটনাটি ঘটেছিল পিংলা বিধানসভার খড়্গপুর-২ ব্লকের বাড়বাসী এলাকায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মী শান্তনু ঘোড়াইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল ধানখেত থেকে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই শান্তনুকে খুন করে বলে দাবি করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ প্রথমে এফআইআর নেয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে আন্দোলনের চাপে এফআইআর দায়ের হয়। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, বছর তিরিশের শান্তনুর মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তখন ছিলেন বিরোধী দলনেতা। মৃতের বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। এতকিছুর পরেও সুবিচার পাননি বলে অভিযোগ পরিবারের।
রাজ্যে এখন বিজেপির সরকার। তাই ভাইয়ের খুনের ‘বিচার’ চেয়ে বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে হাজির হয়েছিলেন দাদা কার্তিক ঘোড়াই সহ পরিজনরা। বৃহস্পতিবার নিজের বাড়িতে দাঁড়িয়ে কার্তিকবাবু বলেন, ভাই এলাকার ডাকাবুকো বিজপি কর্মী ছিল। ওকে অনেকবার হুমকি দিয়েছিল তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তবুও কথা শোনেনি আমার ভাই। লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চালাচ্ছিল। সেই আক্রোশেই ওকে খুন করে ধানখেতে ফেলে দেয়। পুলিশ এফআইআর পর্যন্ত নিতে চায়নি। অনেক বিক্ষোভ, আন্দোলনের পর এফআইআর নিয়েছিল। কিন্তু, তদন্ত কিছুই করেনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুবাবু সবকিছুই জানেন। তিনি তখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন। আমার বাবা-মা’কে নিয়ে রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিলেন। কার্তিকবাবুর দাবি, অভিযুক্তরা বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা তাদের শাস্তি চাই। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করছেন। জেলার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নতুনভাবে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সময় ঘাটাল লোকসভার বিজেপি প্রার্থী হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় (হিরণ) সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছিলেন। তবে, রাজ্যে নতুন সরকারের আমলে পুলিশই উপযুক্ত তদন্ত করতে পারবে বলে আশা।
ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, আমরাও ওই খুনের সঠিক বিচার চাই। পুলিশ সেই সময় বলেছিল, জলে ডুবে মারা গিয়েছে। জমিতে কীভাবে জলে ডুবে মারা যাবে! রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুবাবু সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
আদি-তৃণমূলের নেতা জওহর পাল বলেন, প্রতিহিংসা নয়, পুলিশ সঠিক তদন্ত করে ঘটনার কিনারা করুক।