Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআইটিতে অধ্যক্ষের অফিসে এবিভিপি’র ২ গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, ভাঙচুর

বুধবার রাতে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি(ইউআইটি)

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআইটিতে অধ্যক্ষের অফিসে এবিভিপি’র ২ গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, ভাঙচুর
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বুধবার রাতে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি(ইউআইটি)। অধ্যক্ষের অফিসে এবিভিপি’র দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। প্রাণভয়ে অধ্যাপক সহ কয়েকজন কর্মী বাথরুমে গিয়ে আশ্রয় নেন। অধ্যক্ষের অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বাইরে থাকা বাইকেও ভাঙচুর চালানো হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবিভিপি’র দু’টি গোষ্ঠী আলাদা আলাদাভাবে বিশ্বকর্মা পুজো করতে চায়। গত বছর পর্যন্ত একটিই পুজো হত। তাতে সমস্ত পড়ুয়া অংশ গ্রহণ করত। অশান্তি এড়াতে কলেজ কর্তৃপক্ষ দু’টি পুজোয় সায় দেয়। এনিয়ে দু’পক্ষ বচসায় জড়িয়ে পড়ে। পরে সংঘর্ষ হয়। বাইরে থেকে লোকজন এনে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। দু’পক্ষের সাত থেকে আট পড়ুয়া জখম হয়েছেন।

Advertisement

জখম ছাত্র সৌরভকুমার সিং বলেন, কলেজে একটি পুজোই হয়ে আসছে। এবছর আরও একটি পুজো করার প্রস্তাব দেয়। একই জায়গায় দু’টি পুজো না করার জন্য বলা হয়। তাতেই কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালায়। লাঠি, রড নিয়ে এসে বহিরাগতরাও হামলা করেছে। কলেজে এমন পরিবেশ আগে দেখা যায়নি। পড়ুয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। 
অপর এক ছাত্র বলেন, দু’টি পুজো করলে কারও অসুবিধা থাকার কথা নয়। তারপরেও পরিকল্পনা করে অশান্তি পাকানো হয়। কলেজের সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুরো ঘটনা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে রয়েছে।
এবিভিপি’র সাধারণ সম্পাদক সুশোভন চৌধুরী বলেন, এটা কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই ঘটনায় এবিভিপি কোনো ভাবেই যুক্ত নয়। কলেজে এবিভিপি’র ইউনিট নেই। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি সংঘর্ষে জড়ায় তার দায় এবিভিপি নেবে না। 
তবে কলেজে বহিরাগতদের কারা ঢুকিয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে এবিভিপি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে লাঠি, রড নিয়ে কলেজে ভাঙচুর চালাচ্ছে। চেয়ার টেবিল সব উলটানো রয়েছে। অধ্যক্ষের ঘরে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে দেওয়া হয়। নথি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুর ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। থানাতেও ফোন করা হয়েছিল। যারা ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পড়ুয়াদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কড়া পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে ফের সংঘর্ষ হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা দায় হয়ে উঠবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ